অনুব্রতকে কি রাজনৈতিক কারণে ছাড়ছেন না? সিবিআইকে প্রশ্ন হাইকোর্টের

নিজস্ব সংবাদদাতা: অনুব্রত মণ্ডলের জামিন মামলার শুনানি শেষ। রায়দান স্থগিত রেখেছে কলকাতা হাইকোর্ট। অনুব্রত মণ্ডল মূলত দুটি আবেদন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। প্রথমটি হল সিবিআইয়ের করা মামলায় জামিন সংক্রান্ত আবেদন। দ্বিতীয়টি ইডির এফআইআর খারিজের আবেদন। দ্বিতীয় আবেদনটি ইতিমধ্যেই খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি বিবেক চৌধুরী। এদিন জামিনের আবেদন সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চে। দুই পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শোনে ডিভিশন বেঞ্চ।
অনুব্রতর জামিন সংক্রান্ত বিষয়ে এদিন প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় সিবিআইকেও। অতীতে বার বার সিবিআইয়ের তরফে অনুব্রতকে প্রভাবশালী হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এদিনও ফের সেই প্রভাবশালী তত্ত্বকেই হাতিয়ার করে সিবিআই। তাঁকে ‘পলিটিক্যাল জায়েন্ট’ বা ‘রাজনৈতিক দৈত্য’ বলেও মন্তব্য করে সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে হাইকোর্টের প্রশ্ন, “মূল অভিযুক্ত বিএসএফ-এর সতীশ কুমারকে ছেড়ে দিলেন। আর অনুব্রতকে কি রাজনৈতিক কারনে ছাড়ছেন না?”অনুব্রতর আইনজীবী কপিল সিবাল আদালতে জানান, “৯৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৩ জনের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। প্রথমে বলা হয়েছিল এনামূল হক মাস্টার মাইন্ড। এখন বলা হচ্ছে অনুব্রত মূল চক্রী। একজন সাক্ষী বলেছেন প্রভাবশালী। সেটা প্রমাণিত নয়। অনুব্রত মণ্ডল ১৪৫ দিন জেলে আছেন। বাকি অভিযুক্তরা ছাড়া পেয়েছেন।”
যদিও এই নিয়ে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এদিন কপিল সিবালকে স্মরণ করিয়ে দেন আসানসোল সিবিআই আদালতের বিচারককে হুমকির অভিযোগের কথা। বিচারপতি বাগচি অনুব্রতর আইনজীবীকে বলেন, “আপনার মক্কেলের সুন্দর মুখ। কেউ স্যামারিটন আছেন। আপনাকে সাহায্য করতে চায়। তাই বিচারককে হুমকি দেয় আপনার ভালর জন্য। আপনি মাস্টারমাইন্ড নন। আপনি মাস্টার ফেসিলিটেটর (প্রধান সাহায্যকারী)।”
এই প্রসঙ্গে অনুব্রতর আইনজীবী জানান, অনুব্রতর নাম করে বিচারককে হুমকি দিয়েছিল সুদীপ্ত নামে একজন আইনজীবী। গৌতম চৌধুরী নামে এক ব্যক্তিও এর সঙ্গে জড়িত ছিল।এদিকে এদিন আদালতে সিবিআইয়ের তরফে ডিপি সিং বলেন, “এনামুল গরুপাচার কাণ্ডের অন্যতম কান্ডারি ছিল। যার সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে গরু পাচার করত অনুব্রত মন্ডল। রহিম তার বয়ানে জানিয়েছে অনুব্রতের কাছ থেকে একাধিকবার টাকা নিয়ে তার ভাইকে দিয়েছে। জেল থেকে ফোনে ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ৩৯ বার কথা হয়েছে ফেস টাইমে।”
হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এদিন প্রশ্ন করে, পশু হাটের স্লিপ, বিল ইত্যাদি যে জাল করা হয়েছে তার কোনও প্রমাণ আছে কি না? মন্টু মল্লিকের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে কি না? টাকা কীভাবে যেত তা বোঝা গিয়েছে কি না? আদালতের বক্তব্য, এদের বয়ান রেকর্ড না করলে অপরাধ স্পষ্ট হচ্ছে না। কীভাবে অনুব্রত প্রভাব খাটিয়েছিলেন, সেটা সিবিআইকে প্রমাণ করতে হবে। যার জামিন বাতিল হবে, তার জানার অধিকার আছে কোন অসদুপায়ের জন্য জামিন হচ্ছে না।
আদালত এদিন সিবিআইয়ের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আরও জানতে চায়, ফোন কল রেকর্ড করা হয়েছিল কি না? আইএমইআই নম্বর আছে কি না? কোথা থেকে কথা বলা হয়েছে, সেটা জানা যাবে কি না। আদালত এও জানায়, এটি একটি বড় অভিযোগ এবং তা প্রমাণ হলে আদালত পদক্ষেপ করবে। সিবিআইয়ের কাছে আদালত জানতে চায়, তারা ট্রায়াল চায় না তদন্ত করতে চায়? জবাবে সিবিআই জানায়, তারা তদন্ত করতে চায়। সিবিআই হেফাজতে লালন শেখ মৃত্যুর পর কীভাবে অফিসারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে সেটাও জানানো হয়।



