জাতীয়

বান্ধবীর সঙ্গে ঝগড়া-হাতাহাতি, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল দিল্লি দুর্ঘটনার ঠিক আগের রহস্যময় মুহূর্ত

নিজস্ব সংবাদদাতা: যত সময় যাচ্ছে, ততই দিল্লির দুর্ঘটনা নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে উঠে আসছে। সোমবার বিকেলেই দিল্লি পুলিশ জানতে পেরেছিল, স্কুটারে নিহত তরুণী অঞ্জলী সিং একা ছিলেন না। তাঁর সঙ্গে স্কুটিতে নিধি নামে তাঁর এক বান্ধবীও ছিলেন। দুর্ঘটনার পর তিনি ভয় পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। নতুন এক সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, স্কুটিতে ওঠার আগে নিধির সঙ্গে অঞ্জলির একপ্রস্থ ঝগড়া-হাতাহাতিও হয়েছিল। নয়া ফুটেজে দেখা গিয়েছে অঞ্জলী এবং নিধি একটি হোটেল থেকে বেরিয়ে আসছেন। অঞ্জলীর পরণে ছিল গোলাপী রঙের পোশাক, নিধির লাল। এরপর, যেখানে স্কুটিটি পার্ক করা ছিল, সেখানে আসেন তাঁরা। সেখানে মোটরবাইকে বসে দুই ব্যক্তি নিজেদের মধ্যে গল্প করছিলেন। পার্কিং লটেই দুই বান্ধবীকে ঝগড়া করতে দেখা যায়। অঞ্জলীকে দেখা যায় নিধির কাছ থেকে কিছু একটা ছিনিয়ে নিতে।

পুলিশের সন্দেহ, স্কুটি কে চালাবে, তাই নিয়েই দুই তরুণীর মধ্যে ঝগরা হয়েছিল। অঞ্জলী তাঁর বন্ধু নিধির কাছ থেকে স্কুটির চাবিই ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এর আগে আরেকটি সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছিল যে মর্মান্তক দুর্ঘটনার সময়ে একা ছিলেন না নিহত অঞ্জলী। তাঁর সঙ্গে বান্ধবী নিধিও ছিল। পরে দিল্লি পুলিশের বিশেষ কমিশনার সহরপ্রীত হুডাও এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মঙ্গলবার সকালে বিশেষ কমিশনার সহরপ্রীত হুডা বলেন, “মৃত তরুণী স্কুটিতে একা ছিলেন না। দুর্ঘটনার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরেক তরুণী। দুর্ঘটনার পর তিনি ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। আমাদের কাছে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছেন। সিআরপিসির ১৬৪ ধারার অধীনে তাঁর বক্তব্য রেকর্ড করা হবে।”

সূত্রের খবর, বছরের প্রথমদিনই অঞ্জলী ও নিধির এক বন্ধুর জন্মদিনের পার্টি ছিল ওই হোটেলে। হোটেলেই নাকি ওই দুই তরুণীর মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়েছিল। হোটেল ম্যানেজার তাঁদের বাইরে চলে যেতে অনুরোধ করেছিলেন। এরপরই নীচে গিয়ে হাতাহাতি শুরু করেছিলেন তাঁরা। পার্টির পর, রাত ২টো নাগাদ সেখান থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন তাঁরা। স্কুটিটি দুর্ঘটনার মুখে পড়ার সময় অঞ্জলির সঙ্গে ছিলেন নিধিও। স্কুটার থেকে পড়ে গিয়েছিলেন দুজনেই। সেই সময় গাড়ির নীচে আটকে যায় অঞ্জলীর দেহ। সেই শুদ্ধই গাড়িটি ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।

সামান্য আঘাত লেগেছিল নিধিরও। কিন্তু ঘটনার অভিঘাতে ভয় পেয়ে তিনি দুর্ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে বাড়ি চলে গিয়েছিলেন বলে দাবি। প্রশ্ন উঠেছে, বন্ধুর দুর্ঘটনার খবর তিনি পুলিশকে জানালেন না কেন? কেন সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আসার আগে, তিনি পুলিশের কাছে তাঁর বয়ান দিলেন না? স্কুটি চালানো নিয়েই কি তাদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল?

Related Articles

Back to top button