‘সাহায্য’ নাকি সবটাই ‘সাজানো’, শবকাণ্ডে অঙ্কুরের গ্রেফতারিতে উঠছে প্রশ্ন

নিজস্ব সংবাদদাতা: অর্থাভাবে মায়ের মৃতদেহ শবদেহবাহী গাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সামর্থ নেই। তাই মায়ের মৃতদেহ কাঁধে তুলে চললেন দিনমজুর ছেলে। জলপাইগুড়িতে একটা মর্মান্তিক ছবি প্রকাশ্যে এসেছে বৃহস্পতিবারই। করুণ এই ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে বেসরকারি শববাহী যানের জুলুমবাজির অভিযোগ। ৩ হাজার টাকা দর হাঁকানো শববাহী যানের চালকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন পুলিশ সুপার বিশ্বজিৎ মাহাতো। সেই ঘটনায় এবার চাঞ্চল্যকর মোড়। গ্রেফতার করা হল সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অঙ্কুর দাসকে।ঘটনার দিন মৃত লক্ষ্মীরানি দেওয়ানের মৃতদেহ যখন নিতে অস্বীকার করেছিল বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্স এবং শহবাহী গাড়ির পরিষেবা সেই সময় এগিয়ে এসেছিলেন এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অঙ্কুর দাস ও তাঁদের সংস্থা। সেই অঙ্কুরকেই এবার গ্রেফতার করল পুলিশ।
সূত্রের খবর, শবকাণ্ডের পর অঙ্কুর দাসের বিরুদ্ধে অ্যাম্বুলেন্স চালক অ্যাসোসিয়েশন কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিল। তাঁদের বক্তব্য গোটা বিষয়টিই ছিল সাজানো। এরপর মঙ্গলবার দুপুরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কোতোয়ালি থানায় ডেকে পাঠানো হয় অঙ্কুরকে। রাত অবধি টানা জেরার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনায় জলপাইগুড়ি পুলিশ সুপার বিশ্বজিৎ মাহাতো বলেন অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ তাঁকে আদালতে তোলা হবে।উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার শীতের সকালে সামনে আসে চাঞ্চল্যকর দৃশ্য। একটি দেহ চাদরে পেঁচিয়ে কাঁধে নিয়ে রাস্তার ধার দিয়ে কার্যত জোর পায়ে হাঁটার চেষ্টা করেন বছর চল্লিশের এক ব্যক্তি। পিছনের সেই দেহকেই কাঁধ দিয়েছেন সত্তরের এক বৃদ্ধ। খোঁজ করতে জানা যায়, ওই দেহটি জলপাইগুড়ি জেলার ক্রানি ব্লকের বাসিন্দা লক্ষীরানি দেওয়ানের। গত বুধবার জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, দেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য তিন হাজার টাকা চায় স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স। টাকা দেওয়ার সামর্থ নেই। তাই দেহ এভাবেই নিয়ে গিয়েছিলেন ছেলে ও স্বামী।মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিনামূল্যে পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠছে হাসপাতালের ভেতর যারা বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্স এবং শহবাহী গাড়ির পরিষেবা দিয়ে থাকেন, তাঁদের দর হাঁকানো নিয়েও। অভিযোগ উঠছে, সেখানে একটি দালালচক্র কাজ করে। শেষ পর্যন্ত খবরটি পৌঁছয় অঙ্কুর দাস ও তাঁর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কাছে। তাঁরাই এগিয়ে এসে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।



