রাজ্য

বেলুড়ে বাংলার জুনিয়র ক্রিকেটারের অস্বাভাবিক মৃত্যু, কারণ খুঁজছে পুলিশ

নিজস্ব সংবাদদাতা: বেলুড়ে অস্বাভাবিক মৃত্যু উঠতি ক্রিকেটারের । বুধবার সকালে বেলুড়ের লিলুয়া রেল কলোনিতে বন্ধ ঘরের দরজা ভেঙে উদ্ধার হয় ওই যুবকের দেহ। মৃত ওই যুবকের নাম রোহিত যাদব। বয়স ১৮ বছর। রোহিত বাংলার জুনিয়র ক্রিকেট দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার ছিল। এদিন অনেক ডাকাডাকির পরেও যখন রোহিতের সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন খবর দেওয়া হয় পুলিশে।

বেলুড় থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকে। ঘরের ভিতরে বিছানায় পড়েছিল রোহিতের নিথর দেহ। রোহেতির হাতে সেই সময় একটি অ্যাসিডের বোতলও পাওয়া যায়। দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। কী কারণে প্রতিভাবান যুবকের মৃত্যু, সেই বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। তবে প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, মানসিক অবসাদ থেকেই অ্যাসিড খেয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। যদিও ময়নাতদন্তের রিপোর্টেই বোঝা যাবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ।

প্রতিভাবান ওই ক্রিকেটারের এই মর্মান্তিক পরিণতিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। রোহিত ২০১৯-২০ সালের অনূর্ধ্ব ১৬-র বাংলা দলের ক্রিকেটার ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। বামনগাছির একটি ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে খেলতেন। এমনকী ইডেন গার্ডেন্সেও বাংলার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন বলে দাবি পরিবারের। এলাকাতেও ভাল ক্রিকেটার হিসেবে বেশ নামডাক ছিল রোহিতের।

প্রতিবেশীরা জানাচ্ছেন, খেলার জন্য ভিন রাজ্যেও অনেকবার গিয়েছিলেন রোহিত। কখনও ঝাড়খণ্ড, কখনও বিহার, কখনও উত্তর প্রদেশে যেতে হত খেলার জন্য। এলাকার এমন উঠতি প্রতিভাবান ক্রিকেটারের এভাবে মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসীরা।বেলুড়ে একটি ছোট্ট চায়ের দোকান রয়েছে রোহিতদের। সেই দোকান থেকেই যেটুকু আয় হয়, তা দিয়েই সংসার চলত।

রোহিতের দাদা রাহুল যাদব জানাচ্ছেন, এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আর্থিক অনটনে পড়তে হয়েছিল রোহিতদের। প্রচুর টাকা ধার-দেনাও হয়ে গিয়েছিল। পাওনাদাররা দেনা শোধ করার জন্য় প্রায়শই চাপ দিচ্ছিল। সম্ভবত, সেই চাপ সহ্য করতে না পেরেই অবসাদে আত্মঘাতী হয়ে থাকতে পারে রোহিত, এমনই বলছেন তাঁর দাদা।

Related Articles

Back to top button