খোবলানো চোখ, শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন, গভীর জঙ্গল থেকে উদ্ধার মহিলা ক্রিকেটারের ঝুলন্ত দেহ

নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্য়ের মহিলা ক্রিকেট দলের হয়ে খেলতেন। ট্রেনিং ক্যাম্পের জন্য গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই নিখোঁজ হয়ে যান তরুণী। দুই দিন পর অবশেষে উদ্ধার হল দেহ। শুক্রবার একটি গভীর জঙ্গল থেকে ওই তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করল পুলিশ। জানা গিয়েছে, ওই তরুণীর নাম রাজশ্রী সোয়াইন (২৬)। তিনি ওড়িশার বাসিন্দা। রাজ্যের মহিলা ক্রিকেট দলের হয়ে খেলতেন তিনি। শুক্রবার পুলিশ কটকের একটি জঙ্গলের গভীরে গাছ থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে। ওই তরুণী আত্মহত্যা করেছেন নাকি খুন, তা এখনও জানা যায়নি।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, গত ১১ জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন রাজশ্রী। শুক্রবার ওড়িশার কটক জেলার আথাগড়্র গুরুদিজাটিয়া জঙ্গল থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। জঙ্গল থেকে কিছুটা দূরেই তাঁর স্কুটার পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এটি খুন নাকি আত্মহত্যা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের ডেপুটি কমিশনার পিনাক মিশ্র জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যায়।
জানা গিয়েছে, ওই তরুণী পুরী জেলার বাসিন্দা। তিনি রাজ্যের ক্রিকেট টিমে খেলতেন। সামনেই পুদুচেরীতে জাতীয় স্তরের টুর্নামেন্ট থাকায় ওড়িশা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের তরফে কটকে ট্রেনিং ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই যোগ দিতে এসেছিলেন রাজশ্রী। কিন্তু ১৬ সদস্যের টিমে শেষ অবধি জায়গা করে নিতে পারেননি বলেই জানা গিয়েছে।রাজশ্রীর এক রুমমেট বলেন, “বুধবার বিকেলে শেষবারের মতো রাজশ্রীকে দেখা গিয়েছিল। যখন দলের নাম ঘোষণা করা হয়, সেই তালিকায় তাঁর নাম না থাকায় কাঁদতে দেখা যায়। এরপরই হোটেল থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় সে”। দীর্ঘক্ষণ ধরে তাঁকে ফোন করে না পাওয়ায় কোচ পুস্পাঞ্জলী বন্দ্যোপাধ্যায় কটকের মঙ্গলবাগ পুলিশ স্টেশনে নিখোঁজ ডায়েরি করেন।
এদিকে, মৃত ওই তরুণীর পরিবারের অভিযোগ, আত্মহত্যা নয়, রাজশ্রীকে খুন করা হয়েছে। তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং চোখদুটিতেও গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁদের আরও অভিযোগ, অনেক নির্বাচিত খেলোয়াড়দের তুলনায় রাজশ্রী ভাল খেললেও, ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে জাতীয় টুর্নামেন্টের জন্য দলে জায়গা দেওয়া হয়নি। যদিও পরিবারের এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের তরফে।


