সারা গায়ে সিগারেটের ছ্যাঁকা, জোর করে মুখে গুজে দিত মাংস! রাত গড়াতেই যুবতীর উপরে চলত অকথ্য অত্যাচার…

নিজস্ব সংবাদদাতা: হঠাৎ আলাপ, কথা বলতে বলতেই সম্পর্ক প্রেমের দিকে গড়ায়। সেই প্রেম বিয়ে অবধি গড়াতেও বেশি সময় লাগেনি। বিয়ের পর প্রথম কয়েক দিন সব ঠিকঠাক থাকলেও, আত্মীয়-স্বজনরা বাড়ি থেকে বিদায় নিতেই ধীরে ধীরে বদলে গেল চিত্রটা। প্রেমে হাবুডুবু খেত যে, সে-ই স্বামী হতেই ধারণ করল রণমূর্তি। কথায় কথায় মারধর, সিগারেটের ছ্য়াঁকা দিত স্বামী।
বাড়িতে আজীবন নিরামিষ খাবার খেলেও, অত্যাচার করতেই তাঁকে জোর করে খাওয়ানো হত মাংস। এর সবেরই পিছনে একটা কারণ। স্বামী চান স্ত্রী ধর্ম বদল করুক। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর প্রদেশের লখনউয়ে। সেখানের এক যুবতী তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে পরিচয় গোপন করে বিয়ে এবং ধর্মান্তকরণের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই যুবতী অভিযোগ জানিয়েছেন যে তাঁর স্বামী মুসলিম ধর্মাবলম্বী হলেও, পরিচয় গোপন করে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে। মিথ্যা কথা বলেই তাঁকে বিয়ে করে। লখনউয়ে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন তাঁরা। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শুরু হয় শারীরিক নির্যাতন। যুবতীর দাবি, রোজ তাঁকে যৌন শোষণ করত স্বামী। ধর্মান্তকরণের জন্যও চাপ দেওয়া হত। তিনি অস্বীকার করলেই সিগারেট দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হত, গায়ে ঢেলে দেওয়া হত গরম তেল।
যুবতী পুলিশে অভিযোগ জানানোর চেষ্টা করলে, তাঁকে আত্মীয়-স্বজনকে দিয়ে ধর্ষণ ও খুনের হুমকিও দেয় অভিযুক্ত, এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে পুলিশের রিপোর্টে। যুবতীর আরও দাবি, তিনি একাধিকবার বাড়ি থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু প্রতিবারই তাঁর স্বামী তাঁকে ধরে ফেলে এবং ঘরে বন্ধ করে রেখে প্রচন্ড মারধর করে। একবার পাঁচ মাসের অন্তঃসত্তা থাকাকালীনও স্বামীর মারে তাঁর গর্ভপাত হয়। ওই যুবতীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে।


