রাম-নেতাজিকে সঙ্গে নিয়েই বাংলায় লক্ষ্যভেদ? বিজেপির ‘সাফল্যের’ খতিয়ানে জল্পনা

নিজস্ব সংবাদদাতা: সোমবার (১৬ জানুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে বিজেপির দুই দিনব্যাপী ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটির বৈঠক। বৈঠকে উপস্থিত আছেন প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ-সহ পুরো কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। আছেন বিজেপির রাষ্ট্রীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা-সহ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও। বৈঠকস্থলে, তোরণের দুই ধারে নিজেদের সাফল্যগুলি তুলে ধরেছে বিজেপি। এর মধ্যে একগুচ্ছ জিনিস রয়েছে। আছে রাফাল যুদ্ধবিমান, ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র, সর্দার বল্লভভাই পাটেলের মূর্তি বা স্ট্যাচু অব ইউনিটি, আর অবশ্যই অযোধ্যার রাম মন্দির। এই রাম মন্দিরের ছবির পাশেই রয়েছে নেতাজির ২৮ ফুট উচ্চতার কালো গ্রানাইট পাথরের মূর্তির ছবি। যে মূর্তি স্থাপিত হয়েছে কর্তব্য পথে।
রাম মন্দির নির্মাণ, বিজেপির দীর্ঘদিনের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। কাজেই, বিজেপির কর্মসূচির তোরণে তার ছবি থাকাটা অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু, তার পাশেই নেতাজির মূর্তির ছবি থাকায় এটা স্পষ্ট যে কর্তব্য পথে নেতাজির মূর্তি স্থাপনকে বিজেপি মোদী সরকারের অন্যতম সাফল্য বলে গণ্য করে। এর মধ্য দিয়ে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কী সেই বার্তা? বিজেপির কাছে যতটা গুরুত্বপূর্ণ রাম মন্দির নির্মাণ, ততটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল নেতাজির মূর্তি স্থাপন।
এদিন ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটির বৈঠকে উদ্বোধনী ভাষণ দিত গিয়েও, নেতাজি মূর্তির প্রসঙ্গ টেনেছেন জেপি নাড্ডা। তিনি বলেন, “সবার এই মূর্তি নিয়ে কথা বলা উচিত। কারণ, এই মূর্তি ভারতের ঔপনিবেশিক অতীতকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার প্রতীক।” রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটির বৈঠকে নেতাজি মূর্তির এই গুরুত্ব থেকেই ইঙ্গিত মিলছে যে, বাংলায় ক্ষমতা দখলে আগামী দিনে আরও জোরকদমে ঝাঁপিয়ে পড়বে বিজেপি।
এদিন, আসন্ন নয় রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন নিয়েও বিশদে আলোচনা করেন জেপি নাড্ডা। তিনি জানিয়েছেন, নয়টি রাজ্যের নয়টিতেই জিততে, সকল বিজেপি কর্মীদের সকলকে পূর্ণ উদ্যমে কাজ করতে হবে। এই নয় রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনকে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সেমিফাইনাল হিসেবেই দেখতে বলেছেন জেপি নাড্ডা। ৯ রাজ্যের ৭২,০০০ বুথকে দুর্বল এলাকা বলে চিহ্নিত করেছে বিজেপি। এই বুথগুলিতে দলের শক্তি বাড়ানোর জন্য ঝাঁপাচ্ছে বিজেপি। জেপি নাড্ডা বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে সমস্ত বিধানসভা নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে হবে।”
গুজরাটে সপ্তমবারের জন্য বিজেপির জয়কে তিনি ঐতিহাসিক এবং অভূতপূর্ব বলে উল্লেখ করেছেন। হিমাচল প্রদেশের নির্বাচন সম্পর্কে জেপি নাড্ডা বলেছেন, “সরকার বদলের প্রথা বদল করার কথা ছিল আমাদের। কিন্তু, আমরা তা করতে পারিনি। তবে আমরা ১ শতাংশের কম ব্যবধানে হেরেছি। বিজেপি এবং কংগ্রেসের মধ্যে ভোটের পার্থক্য ছিল মাত্র ৩৭,০০০ ভোট।”


