ত্রিপুরার ১০ বিধায়কের টিকিট না পাওয়ার সম্ভাবনা জোরাল, ভিড়তে পারেন তৃণমূলে

নিজস্ব সংবাদদাতা: দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে ভোট। চলতি সপ্তাহেই ঘোষণা হতে পারে ত্রিপুরার ভোটের দিনক্ষণ। স্বাভাবিকভাবেই সমস্ত রাজনৈতিক দলেরই প্রস্তুতি তুঙ্গে। আর এই প্রস্তুতিপর্বে নিঃসন্দেহে অনেকটাই এগিয়ে বিজেপি। ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসূচির বাস্তবায়ন ইতিমধ্যেই শুরু করেছে কেন্দ্রের শাসকদল। এদিকে বিরোধীরা এখনও ঘর গুছিয়ে উঠতে পারেনি।
জোটের আলোচনা, প্রার্থী জোগাড় সে সব নিয়েই ব্যস্ত বিরোধী শিবির। ইতিমধ্যে উত্তর পূর্বের রাজ্যে সভা, সমাবেশ, পদযাত্রা, মিছিল— দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সামিল হয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মারা। মানিক সাহা, বিপ্লব দেব-সহ রাজ্য মন্ত্রিসভা কিংবা দলের পদাধিকারীরা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত চষে ফেলছেন।
সূত্রের খবর, পদ্মপ্রার্থী তালিকায় একাধিক নতুন মুখ থাকতে পারে। বাদ পড়তে পারেন বর্তমান ১০ বিধায়ক। সেই বিধায়কদের একাংশ ঝুঁকে পড়তে পারেন আবার তৃণমূলের দিকেও। সূত্র বলছে, বাদ পড়ার আঁচ পেয়ে তৃণমূলের সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করেছেন বিজেপির ওই বিধায়করা। তবে একুশে বঙ্গ বিজয়ের পরে যেভাবে পড়শি রাজ্যে তেড়েফুঁড়ে নেমেছিল তৃণমূল, সেই মেজাজ এখন অনেকটা উধাও।
যদিও ভোটের লড়াইয়ে যে তৃণমূল থাকছেই, ইতিমধ্যেই তা স্পষ্ট জানিয়েছে বঙ্গের শাসকদলের নেতৃত্ব। চলতি মাসেই ত্রিপুরায় সভা করতে যেতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা। তবে তাতে ত্রিপুরায় তৃণমূলের ঝাঁঝ কতটা বাড়বে, তা মাপতে সময়ের উপরই ভরসা রাখছেন রাজনীতির কারবারিরা।ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পরে সভা সমাবেশ করতে বেগ পেতে হয়েছিল বামেদের। অভিযোগ ছিল, বিজেপির সন্ত্রাসের সামনে মাথা নোয়াতে হয়েছিল তাদের। ইদানিং অবশ্য বামেদের কর্মসূচিতে ভিড় বাড়ছে। এহেন আবহের মধ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের পথে হাঁটতে চাইছে বামেরা। ইতিমধ্যেই সেই বিষয়টি সামনে এসেছে। জোট নিশ্চিত হলেও আসন এখন ভাগাভাগি হয়নি।
এমনও শোনা যাচ্ছে, কংগ্রেসের তরফ থেকে যে পরিমাণ আসন চাওয়া হয়েছে, তা দেওয়া সম্ভব নয় সেটা ত্রিপুরা কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক অজয় কুমারকে জানিয়ে দিয়েছেন জিতেন্দ্র চৌধুরী, নারায়ণ কররা। ত্রিপুরার রাজনীতি তিপ্রা মথা নিঃসন্দেহে ফ্যাক্টর। যদিও এখনই কারও সঙ্গে জোট গড়ার ভাবনা নেই প্রদ্যোৎ বর্মনদের। বরং যত বেশি সম্ভব আসন ঝুলিতে পুরে ভোটের পরে দরাদরি করতে চান তাঁরা।
অন্যদিকে ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপি যে প্রতিশ্রুতির ঝুলি উপুর করেছিল, বাস্তবে তার অনেকটাই পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ বিরোধীদের। এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে আমজনতারও। সেই ক্ষোভ প্রশমন করাই এখন মূল লক্ষ্য বিজেপির। তবে বিরোধী দলগুলির সাংগঠনিক মাটি ততটাও শক্ত না হওয়ায় কিছুটা স্বস্তিতে বিজেপি।
অন্যদিকে ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা তোলার ভাবনা থাকলেও সংগঠনের হাল খুব মজবুত নয় বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের। যা ভাবাচ্ছে বাম-কংগ্রেসকে। আসন ঘরে তোলার থেকেও সম্মানজনক ভোট যাতে পাওয়া যায়, তা নিয়ে ব্যস্ত তৃণমূল। লিখিতভাবে পৃথক তিপ্রাল্যান্ডের প্রতিশ্রুতি না দিলে কোনও দলের সঙ্গেই নির্বাচনী সমঝোতা করবেন না তিপ্রা মথা। সোমবার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রদ্যোৎকিশোর দেববর্মন। আর এসবের মধ্যেই বিজেপির জনবিশ্বাস যাত্রা চলছে। কংগ্রেস করছে জনসম্পর্ক অভিযান।



