অসুস্থ শরীর, তবুও চেষ্টা করেছিলেন বের হওয়ার, লেলিহান আগুনের গ্রাসে মর্মান্তিক পরিণতি বাবা-মেয়ের

নিজস্ব সংবাদদাতা: দিনআনি দিন খাওয়া পরিবার। ঝুপড়িতে থেকেই দিন কাটত ওদের। সেখানেই ঘটল ভয়ঙ্কর কাণ্ড। সর্বগ্রাসী আগুন (Fire) গিলে খেল ১৫টি ঝুপড়ি। অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হল বাবা ও মেয়ের। বুধবার ভোর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মেচেদাতে। মৃত দু’জনের নাম গোকুল বর (৫৫) ও মল্লিকা বর (১৭)। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।
মেচেদা ব্রিজ সংলগ্ন একাধিক ঝুপড়ি বাড়ি রয়েছে। ভোরের আলো তখনও ফোটেনি। ঝুপড়ি বাড়িগুলিতে কেউ-কেউ উঠে পড়ছেন তখন। কেউ আবার ঘুমে আচ্ছন্ন। কারোর চলছে কাজে যাওয়ার তোড়জোড়। ঠিক সেই মুহূর্তেই দুর্ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী সূত্রে খবর, একটি বাড়িতে রান্নার কাজ চলছিল। আচমকা সেখান থেকেই আগুনের একটি ফুলকি ঝুপড়িতে গিয়ে পড়ে। আর তারপরই আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে তা একাধিক ঝুপড়িতে ছড়িয়ে পড়ে ৷ ভস্মীভূত হয়ে যায় ১৫টি বাড়ি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের দু’টি ইঞ্জিন ও কোলাঘাট থানার পুলিশ।
জানা গিয়েছে, যখন এমন ঘটনা ঘটেছে সেই সময় প্রায় সকলেই ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল। অসুস্থ থাকার কারণে ঝুপড়ি বাড়ি থেকে বের হতে পারেনি বাবা ও মেয়ে। যার কারণে আগুনে ঝলসে যান তাঁরা। ঘটনার আহত হয়েছে একাধিক। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এই বিষয়ে কোলাঘাট থানার ওসি ইমরান মোল্লা বলেন, “অগ্নিকাণ্ডে ফলে ১৫ টি বাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে। দু’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। দমকলবাহিনী দ্রুতদার সঙ্গে কাজ করছে। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।” স্থানীয় বাসিন্দা চণ্ডীচরণ বেরা বলেন, “সকালে বস্তির লোক গিয়ে কাজে যাওয়ার আগে রান্না করছিল। কোন কারণে একটি বাড়িতে আগুন লেগে যায়। সেই আগুন অন্য বাড়িতে ছড়িয়ে যায়। একটি ঝুপড়িতে অসুস্থ ছিল বাবা ও মেয়ে বাড়ি থেকে বেরোতে পারেনি দুজনেই মৃত্যু হয়েছে।” স্থানীয় বাসিন্দা শ্যামল সাহু বলেন, “একজন মহিলা রান্না করে, কাজে চলে যান। তারপরে আগুন লেগে যায়। ১৫ টি ঝুপড়ি বাড়ি পুড়ে গেছে। দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।”



