গিজ়ারের গরম জলের আরামই হল কাল, বিয়ের একদিন পরই মর্মান্তিক মৃত্যু

নিজস্ব সংবাদদাতা: মাত্র একদিন আগেই বিয়ে হয়েছিল তাঁর। শ্বশুরবাড়িতে স্নান করতে গিয়েছিলেন নতুন বউ। ঠান্ডার মধ্যে গিজ়ার চালিয়ে, গরম জলে স্নান করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও তিনি বের হননি। স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের সদস্যরা শৌচাগারের বাইরে থেকে তাঁকে ডাকাডাকি করেছিলেন।
কিন্তু, তার কোনও সাড়া শব্দ পাওয়া যায়নি। এরপর শৌচাগারের দরজা ভাঙা হয়েছিল। শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়রা দেখেছিলেন, শৌচাগারের এক কোণে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন তিনি। হাজার ডাকাডাকিতেও আর সাড়া দেননি তিনি। এরপর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, চিকিৎসকরা নববধূকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এক মর্মান্তিক এবং আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটল উত্তরপ্রদেশের মিরাট শহরে।
স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহটা প্রথমে শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের উপরই পড়েছিল। পণের দাবিতে মহিলাদের উপর অত্যাচারের ঘটনা আধুনিক ভারতে রোজই ঘটে চলেছে। কিন্তু না, এই ক্ষেত্রে শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারের কোনও ঘটনা ঘটেনি। তাহলে কীকরে আচমকা স্নান করতে গিয়ে মৃত্যু হল ওই মহিলার? তদন্তে জানা যায়, এর জন্য দায়ী শৌচাগারের গিজ়ারটি। সেটি ছিল একটি গ্যাস চালিত গিজ়ার।
জানা যায়, ওই গিজ়ারের গ্যাস লিক করেই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে ওই নববধূর। আসলে গ্যাস গিজ়ারগুলি থেকে অনেক সময় বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস নির্গত হয়। ওই গ্যাস যদি শ্বাসের সঙ্গে কারোর ফুসফুসে চলে যায়, মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে ওই ব্যক্তির মাথা ঘুরতে পারে এবং তিনি সংজ্ঞা হারাত পারেন, আর কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটতে পারে মৃত্যু।
চিকিত্সকরা সাফ জানিয়েছেন, কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস যদি কোনওভাবে ফুসফুসে চলে যায়, সঙ্গে সঙ্গে চিকিত্সকদের সাহায্য নিতে হবে। কোনও ঘরোয়া প্রতিকার দিয়ে কার্বন মনোক্সাইডের মতো বিষের চিকিত্সা করা যায় না। এর আগেো গ্যাস গিজ়ার ব্যবহার করতে গিয়ে মৃগীরোগীর মতো খিঁচুনি এবং শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত্যুর একাধিক ঘটনা ঘটেছে। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ গ্যাস গিজ়ার ব্যবহার করলে কমপক্ষে একটি জানালা সহ শৌচাগারে যাতে ভালভাবে বায়ুচলাচল করতে পারে, সেইরকম ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেন।
চিকিৎসকরা আরও জানিয়েছেন, কার্বন মনোক্সাইডের বিষক্রিয়ার পরিচিত উপসর্গগুলি হল – বমি বমি ভাব, বমি, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা। চিকিৎসকরা বলেছেন, গ্যাস গিজ়ার ব্যবহারকারীদের মধ্যে এই উপসর্গগুলি দেখা দিলে তা কখনই উপেক্ষা করা উচিত নয়।
কারণ এই ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কয়েক মাস ধরে খিঁচুনিরোধী ওষুধ দিয়ে এর চিকিত্সা করা যেতে পারে। তবে, কেউ যদি পাঁচ মিনিটের বেশি সময় কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের সংস্পর্শে থাকে তাহলে সে চেতনা হারাতে পারে এবং এমনকি শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত্যুও হতে পারে। যেমনটা ঘটেছে মীরাটের মহিলার ক্ষেত্রে।


