রাজ্য

স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, পানীয় জল ছাড়া সব জায়গায় তালা লাগানো হোক, ডিএ ইস্যুতে সুর চড়ালেন শুভেন্দু

কলকাতা: ডিএ (DA) জট নিয়ে একদিকে যখন ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথমঞ্চ। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের ডাকা সরকারি অফিসগুলিতে কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার। অনশনের ১২ দিন ও অবস্থানের ২৬ দিন পড়ল। এদিনও বিভিন্ন সরকারি অফিসে কর্মবিরতি ব্যাপকভাবে চলবে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতিতে যদি কোনও ফল না হয় তাহলে আগামিদিনে বৃহত্তর কর্মসূচি নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনকারী যখন সুর চড়াচ্ছেন, তখন মহার্ঘ ভাতার মতো ইস্যুকে সামনে রেখে চড়ছে রাজনীতির পারদও। ঝাঁঝ বাড়িয়েছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য।

তাঁর কথায়, “যতক্ষণ না ডিএ এবং বকেয়া ডিএ দিচ্ছে স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, পানীয় জল ছাড়া সব জায়গায় তালা লাগিয়ে রাখা হোক।” সুর চড়িয়েছে সিপিএমও। সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, “সার্বিকভাবে কর্মবিরতিতে সাড়া পড়েছে কর্মচারীদের। দু’ চারজন যারা অন্যান্যভাবে ডিএ-র থেকে বেশি টাকা উপার্জন করেন, তারা সরকারের পক্ষে কথা বলছে।” তবে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এ নিয়ে বিজেপি-সিপিএমকে ভাই ভাই বলে খোঁচা দিয়েছেন। কুণালের কথায়, “এই বাংলায় অন্ধ তৃণমূল বিরোধিতা করতে গিয়ে এখন বিজেপির দুই ভাই সিপিএম আর কংগ্রেস।”

সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন এক ছাতার তলায় এসে তৈরি করেছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। ধর্মতলায় লাগাতার অবস্থানে তারা। চলছে অনশনও। এরইমধ্যে সোমবার অর্থাৎ গতকাল ও মঙ্গলবার অর্থাৎ আজ ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। তাদের কথায় এই কর্মবিরতি ‘পেন ডাউন’। অর্থাৎ অফিসে গেলেও কাজ করবেন না আন্দোলনে সমর্থনকারীরা। সোমবার কলকাতা-সহ বিভিন্ন জেলায় কর্মবিরতির যে সার্বিক চিত্রটা উঠে এসেছে, তাতে মিশ্র সমর্থন বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

পাল্টা ময়দানে নেমেছে তৃণমূল সমর্থিত সরকারি কর্মচারীদের সংগঠনও। এই অর্থবর্ষের বাজেটে তৃণমূল সরকার ৩ শতাংশ ডিএ ঘোষণা করায়, মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে তারা। এই কর্মবিরতি প্রসঙ্গে তৃণমূলের সাংসদ শান্তনু সেনের মত, “২০১১ সালের ২০ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এখানে হরতাল, বনধ, কর্মবিরতির সংস্কৃতি উঠে গিয়েছে। বাংলায় কর্মসংস্কৃতি ফিরে এসেছে।”

যদিও বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি দিলীপ ঘোষের কথায়, “পেন ডাউন করে একটা সঙ্কেত দিয়েছেন। অনেক জায়গায় যেতে পারেন তাঁরা। সরকারের ক্ষমতা নেই আটকানোর। কারণ, সরকারকে কেউ ভয় পায় না। সরকার নিজের পায়ে দাঁড়াতেও পারছে না।” মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের এ নিয়ে বক্তব্য, “কেন্দ্রীয় সরকারের ১ লক্ষ কোটি টাকা বঞ্চনা রয়েছে যেখানে, সেখানে আমরা সব দিতে পারব না।” যদিও শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, বিজেপি যে সমস্ত রাজ্যে ক্ষমতায় আছে, সেখানে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ডিএ দেওয়া হয়। ভোটের আগে ডিএ ইস্যু যেন বিরোধীদের কাছে পৌষমাসের সমান। তবে শাসকদলের কাছে কী, তা সময়ই বলবে।

Related Articles

Back to top button