আন্তর্জাতিক

ধরা পড়ল পাকিস্তানের মিথ্যাচার! রাওয়ালপিন্ডিতে দেখা মিলল হিজবুল প্রধানের, মিলছে সেনা নিরাপত্তাও

নিজস্ব সংবাদদাতা: আন্তর্জাতিক মহলকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তান? “মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গিকে” নিয়ে মিথ্যা দাবি করছে ইসলামাবাদ? সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো সামনে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। ওই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে হিজবুল মুজাহিদ্দিনের প্রধান তথা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী তকমাপ্রাপ্ত সইদ সালাহুদ্দিন কে। ভারতের তরফে ঘোষণা করা মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি বসির আহমেদ পীরের শেষযাত্রাতেই তাঁকে প্রার্থনা করতে দেখা যায়। এরপরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে পাকিস্তানের উদ্দেশ্য নিয়ে, কারণ বিশ্বমঞ্চে তাঁরা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার কথা বললেও, দেশের মাটিতে যে সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে, তা ওই ভিডিয়োতেই স্পষ্ট।

সম্প্রতিই পাকিস্তানে নিকেশ করা হয় মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি বসির আহমেদ পীরকে। দিন কয়েক আগে তাঁর শেষযাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই দেখা যায়, আন্তর্জাতিক জঙ্গি তথা হিজবুল মুজাহিদ্দিন প্রধান সইদ সালাহুদ্দিনকে। ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োটিতে দেখা গিয়েছে, সালাহুদ্দিনকে চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছে পাকিস্তানি সেনা।

সূত্রের খবর, পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির একটি সুরক্ষিত জায়গায় ওই কুখ্যাত জঙ্গির শেষযাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল। ভাইরাল ভিডিয়োয় সালাহুদ্দিনকে ভারতকে ধ্বংস করার শপথ নিতেও দেখা যায়। একদিকে যেমন পাক সেনারা তাঁকে চারপাশ থেকে কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঘিরে রেখেছিল, তেমনই উপস্থিত জনতাদের হিজবুল প্রধানদের সমর্থনে স্লোগান দিতেও দেখা যায়।

প্রসঙ্গত, কয়েক মাস আগেই ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের তরফে ‘গ্রে লিস্ট’ থেকে পাকিস্তানের নাম বাদ দেওয়া হয়। যেখানে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে গোটা বিশ্বেরই নজর থাকে পাকিস্তানের উপরে, সেখানে আন্তর্জাতিক স্তরে মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি হিসাবে ঘোষিত সইদ সালাহুদ্দিনের পাকিস্তানের মাটিতে উপস্থিতির প্রমাণ মেলাতেই প্রশ্ন উঠেছে পাকিস্তানের আসল মতলব নিয়ে। সম্প্রতিই তারা ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সকে যে ৩৪ স্তরের অ্যাকশন প্ল্যান জমা দিয়েছিল, তাতে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা নিয়ে ভুয়ো তথ্যই জমা দিয়েছিল বলে অভিযোগ উঠছে।

অন্যদিকে, মৃত জঙ্গি বসির আহমেদ পীরকেও ২০২২ সালেই বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনে “জঙ্গি” হিসাবে ঘোষণা করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে হিজবুল মুজাহিদ্দিন, লস্কর-ই-তৈবা ও অন্যান্য পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকা এবং জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ পরিচালন ও নতুন জঙ্গি নিয়োগের অভিযোগ ছিল।

Related Articles

Back to top button