ধ্বংসস্তূপের পাশেই রান্না, বিনোদনের আয়োজন, মৃত্যুপুরী আলেপ্পোয় এক মুঠো ভাল থাকার দাওয়াই

নিজস্ব সংবাদদাতা: শিশুদের চোখে এখনও আটকে আছে ভয়। এই বুঝি সব শেষ! চারপাশে শুধুই ধ্বংসস্তূপ। তারই মধ্যে শিশুদের পছন্দের খাবার রান্না করে চলেছে এক সমাজসেবী সংস্থা। মাংস, সবজি কী নেই তাঁদের মেনুতে। সিরিয়ার অন্যতম বড় শহর আলেপ্পোয় দেখা যাচ্ছে সেই অন্যরকম ছবি। আসলে শুধুমাত্র মৃত্যুর হিসেব আর ভেঙে পড়া বাড়ির ছবি দিয়েই ক্ষতির বিচার হয় না। ৭.৮ মাত্রা ভূমিকম্পের পর আরও অনেক বড় অসুখে ভুগছে সিরিয়ার শিশুরা। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে এমনিতেই সমস্যা অনেক। তার মধ্যে সাম্প্রতিক বিপর্যয়ে মৃত্য মিছিল আরও বেশি আতঙ্কিত করেছে সেখানকার শিশুদের। তাদের চোখে মুখে রীতিমতো আতঙ্ক। আর সেই ভয় কাটাতেই ত্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করছে সমাজসেবী সংস্থা।
বছরের পর বছর যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় অনেক রক্তপাত হয়েছে। তারই মধ্যে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে শুধুমাত্র আলেপ্পো শহরেই মৃত্যু হয়েছে ৪৩২ জনের। সিরিয়ায় মোট মৃতের সংখ্যা ৩৬০০। আলেপ্পো শহরে অন্তত ৫০ টি বিল্ডিং একেবারে গুঁড়িয়ে গিয়েছে।
সেই সব ক্ষতই প্রিয় খাবার দিয়ে পূরণ করতে চাইছে ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। যাঁরা রান্না করছেন, তাঁরা বলছেন শুধু পেট ভরানোই তাঁদের কাজ নয়। যে আলেপ্পো শহরের একাধিক খাবার জনপ্রিয়। সেই সবই শিশুদের খাওয়ানোর জন্য দিন-রাত এক করে কাজ করছেন সংস্থার সদস্যরা।
কেউ কেউ আবার শিশুদের হেয়ার কাটেরও ব্যবস্থা রেখেছে। পেশায় হেয়ার ড্রেসার সারকিস হাগোপিয়ান বর্তমানে আশ্রয় নিয়েছেন একটি গীর্জায়। ভূমিকম্প বিধ্বস্ত অঞ্চলে সবাইকে বিনামূল্যে চুল কাটার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তিনি।
শহরের অন্য একটি জায়গায় শিশুদের বিনোদনের বন্দোবস্ত করেছেন পেশায় অভিনেত্রী সোনা স্লোকজিয়ান। তিনি বলেন, শিশুরা শুধু জল আর খাবারই চায় না। খেলাধূলায় তাদের বিপর্যয় ভোলানোও জরুরি। তাই নাচ-গানের মাধ্যমে বিনোদনের চেষ্টা করছেন তিনি। নিজেও পরেছেন লাল-সাদা গাউন, ঠোঁটে লাল লিপস্টিক, যাতে শিশুদের মনে হয় সবকিছুই স্বাভাবিক আছে।
যারা পরিবার হারিয়েছে, বসতবাড়ি হারিয়েছে, তাদের জন্য হয়ত স্বাভাবিক হবে না অনেক কিছুই। কবে মাথার ওপর ছাদ মিলবে, তাও জানা নেই। তবু তাদের ছন্দে ফেরানোর চেষ্টা চলছে আলেপ্পি জুড়ে।


