লুডো খেলতে গিয়ে মুলায়ম সিং যাদবের প্রেমে পাক কিশোরী, ভিসা ছাড়াই ভারতে এসে করলো বিয়েও!

নিজস্ব সংবাদদাতা: অনলাইনে লুডো খেলতে গিয়ে আলাপ। সেই আলাপ থেকেই গড়ে ওঠে প্রেম। কিন্তু সেই প্রেমকে পরিণতি দিতে বিয়ে করতে ছিল বেশ কিছু বাধা। যার মধ্যে প্রধান বাধা ভৌগলিক। কারণ দুজন দুই ভিন্ন দেশের বাসিন্দা। প্রেম কী আর কাঁটাতারের বাধা মানে! এ ক্ষেত্রেও মানেনি। তাই পরিবারের লোকের গয়না বিক্রি করে, বন্ধুদের থেকে টাকা ধার করে এসেছিলেন প্রেমিকের দেশে। বিয়েও করেছিলেন। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষে ওই কিশোরীকে ফিরে যেতে হচ্ছে নিজের দেশে। ওই কিশোরী পাকিস্তানের বাসিন্দা। তার বয়স ১৬ বছর। অনলাইনে লুডো খেলতে গিয়ে এক ভারতীয় যুবকের প্রেমে পড়েন তিনি। ওই যুবক বেঙ্গালুুরুতে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করতেন। ওই যুবককে বিয়ে করতে পাকিস্তান থেকে ভারতে এসেছিলেন ওই কিশোরী।
জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের ওই কিশোরীর নাম ইকরা জিভানি। গত মাসে তাকে বেঙ্গালুরু থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। গত রবিবার ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশে বাড়ি ওই কিশোরীর। ভারতীয় যুবককে বিয়ে করে যে ভাবে সে পাকিস্তান থেকে ভারতে এসেছিল, তা হার মানাতে পারে সিনেমার কাহিনিকেও।
মুলায়ম সিং যাদব নামের এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের অনলাইনে সম্পর্ক হয় ইকরার। ১৬ বছরের ইকরা মুলায়মের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিলেন। প্রেমিককে কাছে পেতে তিনি ভারতে আসার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ভারতে আসার জন্য ভিসা পাওয়া এক জন পাকিস্তানির কাছে যথেষ্ট কষ্টসাধ্য। খরচও রয়েছে। তাই বাড়ির লোকের গয়না বিক্রি করে টাকা জোগাড় করে ওই কিশোরী। বন্ধুদের থেকে টাকা ধারও নিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তার পর পাকিস্তান থেকে দুবাইগামী বিমানের টিকিট কাটে সে। দুবাই পৌঁছে সেখান থেকে ধরে নেপালের কাঠমান্ডুর বিমান। নেপালে এসে নেপালের সীমান্ত দিয়ে ভারতে আসে ওই কিশোরী। ভারতে এসে কয়ের মাস আগে মুলায়মকে বিয়ে করে বেঙ্গালুরুতেই থাকছিল সে।
যদিও স্কুলে যাওয়ার পথে ইকরা নিখোঁজ ছিল। ফলে তার পরিবারের লোকেরা খোঁজ শুরু করেন। ভারতে এসে হিন্দু নাম নিয়ে থাকতে শুরু করে সে। কিন্তু নামাজ পড়তে দেখে প্রতিবেশীদেকর কাছে ধরা পড়ে যান। এর পর পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। ইকরার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই কিশোরী খুবই লাজুক। তাই প্রেমের কথা পরিবারের লোকেদের থেকে চেপে গিয়েছিল সে। ভারতে যে যুবকের সঙ্গে তার আলাপ সে হিন্দু হলেও নিজেকে মুসলিম বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। ইকরাকে ফিরে পাওয়ায় ভারত এবং পাকিস্তান দুই দেশের সরকারকেই ধন্যবাদ জানিয়েছে তার পরিবারের লোকেরা।


