‘পরিস্থিতি রাষ্ট্রপতি শাসনের দিকে যাচ্ছে’, TV9 বাংলার সাংবাদিককে মারধর নিয়ে নিন্দায় দিলীপ ঘোষ

নিজস্ব সংবাদদাতা: বীরভূমের নলহাটিতে বিভাস অধিকারীর ডেরায় খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত টিভি নাইন বাংলার সাংবাদিক। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ । তাঁর স্পষ্ট কথা, “পরিস্থিতি ৩৬৫-র দিকেই যাচ্ছে।” অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি শাসন নিয়ে সোজাসাপ্টা মন্তব্য দিলীপের। নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে একের পর এক নাম উঠে আসছে। গোপাল দলপতি ও কুন্তল ঘোষের মুখে শোনা গিয়েছিল নলহাটির তৃণমূল নেতা বিভাস অধিকারীর নাম। বিভাসের অবশ্য বক্তব্য, এখন তিনি সক্রিয় রাজনীতি করেন না। যদিও ইতিমধ্যেই ইডির স্ক্যানারে তিনি। একখানা ফ্ল্যাটও সিল করে দিয়েছে। সেই বিভাসের নলহাটির ঠিকানায় যেতেই টিভি নাইন বাংলার সাংবাদিক ও ক্যামেরাপার্সনের উপর হামলা চালান জনা পঞ্চাশেক লোক। গাড়ির চালকের থেকে চাবি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। দুই প্রতিনিধিকে রাস্তায় ফেলে চলে বেধড়ক মার। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে বিভিন্ন মহল।
দিলীপ ঘোষ বলেন, “সাহস তো ওরা প্রথম থেকেই পেয়ে এসেছে। ওদের গায়ে তো কেউ হাত দিতে পারে না। পুলিশ তো গায়ে হাত দেয় না। এতদিন ধরে যে দুর্নীতি চলছে, তা নির্ভয়ে চলছে। এর আগেও রিপোর্টারদের পেটানো হয়েছে। আজও দেখলাম। আমার মনে হয় সংবাদমাধ্যমই একমাত্র এই দুর্নীতিগুলোকে তুলে ধরছে, মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। সেটা তো ওদের জন্য ভাল নয়, তাই ওরা মিডিয়াকে আক্রমণ করছে। আসলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে যা যা আছে, তৃণমূল চিরকালই তা অস্বীকার করে। সত্যি তুলে ধরছে বলে এখন মিডিয়া ওদের কাছে শত্রু হয়ে গিয়েছে।”
একইসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “বাংলায় যে কী চলছে তা বাংলার সরকারও জানে না। বিচিত্র পরিস্থিতি এখন। সরকারের হাতে টাকা নেই। অ্যাডমিনিস্ট্রেশন চলছে না। বেতন, ডিএ, পেনশন দিতে পারছে না। স্বভাবতই সরকার ব্যাকফুটে। ডামাডোল চলছে। যে যা ইচ্ছা করছে, সামলানোর কেউ নেই। সাধারণ মানুষের জীবন কোনও ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠছে।”
সম্প্রতি নিশীথ প্রামাণিকের কনভয় ঘিরে বিক্ষোভের ঘটনায় উত্তাল হয় কোচবিহারের দিনহাটা। বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসনের পক্ষে জোরাল সওয়াল করেন বঙ্গ বিজেপির নেতারা। এদিন দিলীপ ঘোষ বলেন, “যে ঘটনা দিনের পর দিন ঘটছে, যেখানে এগুলো পৌঁছে যাচ্ছে, প্রশাসনের কোনও অস্তিত্ব নেই। এর জন্য কেন্দ্র সরকারের নজর রাখা উচিত। বাংলার মানুষের সুবিচার পাওয়ার অধিকার আছে। তার জন্য রাস্তা বার করা দরকার। পরিস্থিতি ৩৬৫ দিকেই যাচ্ছে।” ৩৬৫ ধারা মানে রাষ্ট্রপতি শাসন।



