‘কী উল্টোপাল্টা বকছেন’ মন্ত্রীর সঙ্গে তর্ক করতেই গ্রামবাসীদের ধমক তৃণমূল কর্মীর

নিজস্ব সংবাদদাতা: “আপনারা যা যা বলছেন আমরা সব করে দেব। কিন্তু আপনারা বলুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো আপনাদের কথা কেউ এরকমভাবে ভেবেছেন? বুকে হাত দিয়ে বলুন তো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাবছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভাবছেন। এর আগে তো তো কেউ ভাবেনি।” গ্রামবাসীদের উদ্দেশ্য করে বলছিলেন সেচমন্ত্রী পার্থ ভৌমিক। গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন এলাকার উন্নয়ন নিয়ে। উঠছিল করের কথা। আর তখনই মন্ত্রীর সামনেই একজন বলে ফেললেন, “আজকে আমাদের দেশের প্রতিটা লোক ট্যাক্স দিচ্ছে বলে দেশের উন্নয়ন হচ্ছে।” উঠে এল কংগ্রেস আমল, বাম আমলের উন্নয়নের কথা। তা শোনা মাত্রই খানিক যেন রেগেই গেলেন মন্ত্রীর সাঙ্গপাঙ্গরা। একজন তৃণমূল কর্মী তো বলেই ফেললেন ‘কী উল্টোপাল্টা বকছেন’। গ্রামবাসীদের সঙ্গে শুরু হল বচসাও। সরকারি প্রকল্পের শিলান্যাসে এসে স্থানীয়দের সঙ্গে বচসায় জড়ালেন সেচমন্ত্রী পার্থ ভৌমিক। মন্ত্রী চলে যেতেই উধাও সরকারি ব্যানার ও পোস্টার। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
শনিবার সকালে কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ মহকুমার নাজিরান দেওটিখাতা এলাকায় যান মন্ত্রী। আলিপুর জেলা সেচ দপ্তরের উদ্যোগে, কোচবিহার জেলার রামপুর এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে নাজিরান দেওখাতা পর্যন্ত চাষের জমির উপর জলের ক্যানেল প্রকল্পের শিলান্যাস আসেন রাজ্যের সেচ মন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তুফানগঞ্জ ২ নম্বর ব্লক বিডিও প্রসেনজিৎ কুণ্ডু ও অন্যান্য প্রাশাসনিক কর্তারা। ঠিক সে সময় স্থানীয়দের সঙ্গে বচসায় জড়ালেন মন্ত্রী। স্থানীয়দের ধমক দিতে শোনা যায় তৃণমূল নেতাও-কর্মীদের। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। মন্ত্রী চলে যেতেই উধাও শিলান্যাসের ব্যানার ও পোস্টার। পঞ্চায়েত ভোটের আগে এই নিয়ে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় শাসকদলের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে পদ্ম শিবির। তীব্র কটাক্ষবাণ শানিয়ে বিজেপি নেতা উৎপল দাস বলেন, “মানুষ তৃণমূলের ভাওতাবাজি ধরে ফেলেছে। ভোটের আগে ভোটের রাজনীতি করতে ওই গ্রামে গিয়েছিলেন সেচমন্ত্রী। ওনাকে দেখে মুখের উপর আসল কথা বলে দিয়েছেন ওখানকার মানুষেরা। এসমস্ত ভাওতাবাজি দিয়ে তৃণমূল ভোট বৈতরণী পার করতে পারবে না। আর তৃণমূল এমনিতেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জড়িত। ওখানে অপর গোষ্ঠী যেটা করেছে শিলান্যাসের পরে বোর্ডটা সরিয়ে দিয়েছে। এটা খুব সুন্দর কাজ করেছে।”



