রাজ্য

নদী থেকে বালি তুলতে গিয়ে চাপা পড়ে মৃত ৩ কিশোর, হোলির আগেই মর্মান্তিক ঘটনা শিলিগুড়িতে

নিজস্ব সংবাদদাতা: সামনেই হোলি। রং খেলার জন্য টাকা জোগাড় করতে স্থানীয় বাসিন্দার নির্দেশেই বালি তোলার কাজে লেগেছিল। অবৈধ ভাবে বালি তুলতে গিয়ে তিন কিশোরের মৃত্যু হল শিলিগুড়ির মাটিগাড়ায়। বালাসন নদী থেকে বালি তুলতে গিয়ে মৃত্যু। বালি তোলার অনুমতি ছিল না বলে অভিযোগ। ট্রাক্টর নিয়ে বালি তুলতে যায় তিন জন। বালি চাপা পড়ে মৃত্যু হয়। অভিযোগ, মৃতদের মধ্যে দু’জন নাবালক। পরিস্থিতি সামলাতে এলাকায় পুলিশের বড় বাহিনী। উত্তরবঙ্গে জানুয়ারি মাস থেকেই বালি তোলার কোনও অনুমতি নেই। কিন্তু অভিযোগ, প্রতিদিনই শয়ে শয়ে ট্রাক নদী থেকে বালি তুলে নিয়ে যাচ্ছে। সরকারি নিয়মকে তোয়াক্কা না করেই বালি উত্তোলন চলছে, তা পাচারও হয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রশাসনেরও একাংশের মদত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

রবিবার রাতেও তিন কিশোর নদী চরে বালি তুলতে নেমেছিল। বালি তোলার সময়েই চাপা পড়ে মৃত্য়ু হয় তিন জনের। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উত্তরবঙ্গের সব নদীতেই রাতে বালি পাচার হচ্ছে। প্রশাসনের কড়া নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বালি পাচার যে রোখা সম্ভব হয়নি, তার প্রমাণ মিলল রবিবারও। সূত্রের খবর, দুর্ঘটনাস্থলে যাবেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব।

প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, নরেশ সর্দার নামে এক বাসিন্দার নির্দেশেই তিন কিশোর বালি তোলার কাজে গিয়েছিল। এলাকায় চাপা ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন,”ভোর সাড়ে তিনটে-চারটের সময়ে গাড়ি লোড করতে এসেছিলেন লেবাররা। মাটি খুঁড়ে গাড়িতে তোলে। সেই সময়েই ধস নেমে যায়। তিন জনেরই মৃত্যু।” স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, “অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। পুলিশকে যখন দায়িত্ব দেওয়াই হয়েছে, তারপরও কেন রাতে এই ধরনের কাজ চলছে? পুলিশ সক্রিয় হলে এই ছোট বাচ্চাগুলোর প্রাণ যেত না। আজকে যদি ওদের কাজ থাকত, ওদের কাছে টাকা থাকত, তাহলেও ওদের এভাবে প্রাণ দিতে হত না।” এই ঘটনায় কাউকে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

Related Articles

Back to top button