দলের কর্মীকে গ্রেফতারের দাবিতে সরব তৃণমূল বিধায়ক, প্রয়োজনে দ্বারস্থ হবেন অভিষেকের

নিজস্ব সংবাদদাতা: মহিলা তৃণমূল কর্মীদের মারধরের ঘটনায় গ্রেফতার তিন তৃণমূলকর্মী। মেডিক্যাল কলেজের মহিলা সহ অন্যান্য কর্মীদের মারধর এবং হাসপাতালে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে। তিন তৃণমূলকর্মীকে গ্রেফতার করছে পুলিশ। মূল অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতারের দাবি নিয়ে প্রয়োজনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায়। হাসপাতালে ইউনিয়ন কার হাতে থাকবে, তা নিয়েই মূলত দ্বন্দ্ব তৈরি হয় তৃণমূলের অন্দরে। সোমবার সেই বিবাদ চরম আকার নেয়। রক্তারক্তি ঘটে যায় দু পক্ষের মধ্যে।
বিধায়কের দাবি, হাসপাতালে দাদাগিরি কোনও ভাবে বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজনে তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে গুণ্ডামি রুখবেন। তিনি স্পষ্ট বলেন, শাসকদল প্রভাবিত শ্রমিক সংগঠন একটাই তা হল INTTUC। দ্বিতীয় কোনও সংগঠনের অস্তিত্ব নেই। গতকাল হাসপাতালে মহিলাদের মারধর সহ পুরো ঘটনা দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে এসে এমনটাই জানিয়েছেন রাজগঞ্জের বিধায়ক তথা তৃণমূলের চেয়ারম্যান খগেশ্বর রায়।
এদিন কলকাতা থেকে ফিরেই জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে কথা বলেন রাজগঞ্জের বিধায়ক। জানা গিয়েছে,বর্তমানে ১ মহিলা সহ ৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই হাসপাতালে। তাঁদের সাথে কথা বলেন খগেশ্বরবাবু। তিনি হাসপাতালে পৌঁছতেই আইএনটিটিইউসি-র নেতা কর্মীরা সোমবারের ঘটনা নিয়ে সোচ্চার হন। বিধায়ককে অভিযোগ জানান পুণ্যব্রত মিত্র সহ অন্যান্যরা।
উল্লেখ্য, সোমবার বিকেল থেকে তৃণমূলের দুই সংগঠনের গোষ্ঠী সংঘর্ষের জেরে প্রবল উত্তেজনা ছড়ায় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। গণ্ডগোলের জেরে জলপাইগুড়ি শহরের কদমতলা, রায়কতপাড়া সহ ১৯ টি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রায় ৫ ঘণ্টার পথ অবরোধ করেন আইএনটিটিইউসি-র নেতা-কর্মীরা। পথ অবরোধের নেতৃত্বে ছিলেন তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি রাজেশ লাকড়া। তাঁদের মূল দাবি ছিল, কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতার করতে হবে।
অভিযোগের ভিত্তিতে এখনও পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি আদালতে তোলা হয়। আইএনটিটিইউসি নেতা পূন্যব্রত মিত্র জানান, মহিলারাও বাদ যাননি আক্রমণের হাত থেকে। ঘটনায় জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় কৃষ্ণ দাস, প্রধান হেমব্রম সহ মোট ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বিধায়ক খগেশ্বর রায় বলেন, পুরো বিষয়টি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরে আনা হয়েছে। সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। দাদাগিরি বা কোনওরকম অনৈতিক কাজ বরদাস্ত করা হবে না। এই বিষয়ে কথা বলতে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হয়েছিল তৃণমূল নেতা কৃষ্ণ দাসের সঙ্গে। কিন্তু তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।



