রাজ্য

চোর ঢুকে উথাল পাথাল করেছে সারা বাড়ি, মায়াপুর থেকে ফিরে কপালে হাত দম্পতির

নিজস্ব সংবাদদাতা: মায়াপুর ইসকনে সপরিবারে দোল কাটাতে গিয়েছিলেন শিক্ষক। সোমবার গিয়ে বুধবারই ফিরে আসেন। এরইমাঝে বাড়িতে কার্যত তাণ্ডব চলে। থানা থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বেই শিক্ষক দম্পতির বাড়িতে ঘটে বড়সড় চুরির ঘটনা। খোয়া গিয়েছে লক্ষাধিক টাকার সোনার গয়না ও নগদ টাকা। মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোণা  পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গাজিপুর এলাকার এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, সোমবার সপরিবারে মায়াপুরে বেড়াতে যান শিক্ষক দম্পতি। দু’দিন পর বাড়ি ফিরে দেখেন একের পর এক দরজার তালা ভাঙা। বাড়ির ভিতরে থাকা একাধিক আলমারিও তালা ভাঙা অবস্থায় উল্টে পড়ে রয়েছে। তছনছ করা হয়েছে ঘরের কোণা কোণা। অভিযোগ, এই শিক্ষকের বাড়ি চন্দ্রকোণা থানা থেকে সামান্য দূরে। তারপরও এমন ঘটনায় এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

গাজিপুরের বাসিন্দা সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী যূথী বন্দ্যোপাধ্যায় দু’জনই স্কুলে পড়ান। তাঁদের দুই সন্তান। সুব্রতবাবু চন্দ্রকোণার ক্ষীরপাই হাইস্কুলের সহ শিক্ষক। যূথীদেবী চন্দ্রকোণারই ঠাকুরবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহ শিক্ষিকা। শিক্ষক দম্পতি জানান, গত সোমবার দুপুরে সপরিবারে তাঁরা মায়াপুর গিয়েছিলেন। বুধবার সন্ধ্যার পর বাড়ি ফিরে ঘরের অবস্থা দেখে চোখ কপালে ওঠে।

অদ্ভুতভাবে ঘরের মূল দরজা দেখে বোঝাই যায়নি ভিতরে কেউ ঢুকেছিল। ভিতরে ঢুকতেই দেখেন গ্রিলের তালা ভাঙা। একাধিক ঘরের তালাও ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এই দৃশ্য দেখে ওই দম্পতি বুঝে যান কী ঘটেছে। কপালে হাত পড়ে যায় তাঁদের।

বাড়ির একতলা ও দোতলার একাধিক রুমে গিয়ে দেখেন সব তছনছ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পাঁচটি আলমারির মধ্যে কোনওটার তালা ভাঙা, মেঝেতে শোয়ানো। কোনওটার আবার ভিতরে সব ওলট পালট। বাড়ির উঠান থেকে মিলেছে একটি স্ক্র্যু-ড্রাইভার ও গামছা। অনুমান, পাঁচিল টপকে ভিতরে ঢুকে একের পর এক দরজার তালা ভেঙে ঘরে ঢোকে চোরের দল।

শিক্ষক দম্পতি জানান, সকলেই বেড়াতে চলে যাওয়ায় বাড়ি ফাঁকাই ছিল। দু’দিন পর ফিরে এসে দেখেন এই অবস্থা। খবর দেওয়া হয় চন্দ্রকোণা থানায়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। চুরির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানান ওই শিক্ষক দম্পতি। তাঁরা জানান, নগদ টাকার পাশাপাশি লক্ষাধিক টাকার সোনার গয়না চুরি গিয়েছে তাঁদের। এই ঘটনায় এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার লোকজন। সামনে চন্দ্রকোণা থানা। রয়েছে চন্দ্রকোণা সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ডও। অত্যন্ত জনবহুল এলাকা। সেখানে এমন ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে।

Related Articles

Back to top button