গরু পাচারের আয় আদতে গিয়েছে কোন প্রভাবশালীর কাছে? নামটা অনুব্রতর পেট থেকে বার করতে আবারও হেফাজতে চাইবে ইডি

নিজস্ব সংবাদদাতা: দিল্লিতে ‘ল্য়ান্ড’ করেই অনুব্রতকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বিচারকের বাড়িতে। এবার সরাসরি বিচারকের সামনে পেশ করা হবে অনুব্রত মন্ডলকে । তিন দিনের ইডি হেফাজতের পর শুক্রবার রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টের ৪১১ নম্বর ঘরে হাজির করানো হবে অনুব্রতকে। আবারও ১১ দিনের জন্য হেফাজতের আবেদন জানাবে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট । গরুপাচারের আর্থিক লেনদেন, অনুব্রতর বিনিয়োগের উৎস খুঁজে বের করতে তৎপর তদন্তকারীরা। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইতিমধ্যেই হাতে এসেছে তাঁদের। সেগুলির ভিত্তিতে চলছে জেরা। তাই এই জেরা আরও দীর্ঘায়িত করতে চান কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার গোয়েন্দারা। সে কারণেই হেফাজতের আবেদন। গরুপাচারের প্রোটেকশনমানি কীভাবে, কোথায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে, তা খুঁজে বের করতে অনুব্রতকে হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন বলে এদিন আদালতে বিচারকের সামনে জানাবে ইডি। সূত্রের খবর, ইডি-র তরফে এদিন আদালতে অনুব্রতর প্রভাবশালী তকমাও প্রসঙ্গও উত্থাপিত করা হতে পারে। শক্তিগড়ের ঘটনাও সামনে আনার প্রবল সম্ভাবনা।
সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, দিল্লি নিয়ে যাওয়ার পর অনুব্রতকে সেভাবে বিশেষ জেরা করতে পারেননি তদন্তকারীরা। গরু পাচারের বেআইনি টাকা আদতে গেল কোথায়, সেই উৎসটাই টেনে বার করতে চান তদন্তকারীরা। গরু পাচারের মূল চক্রী এনামুল হক, দেহরক্ষী সায়গল হোসেন, মেয়ে সুকন্যা মণ্ডলকে জেরা করে যে তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা, তার ভিত্তিতেই অনুব্রতর জন্য প্রশ্নমালা তৈরি করেছে ইডি। তদন্তকারীরা মনে করছেন, গরু পাচারের টাকা আরও কোনও এক প্রভাবশালীর কাছে গিয়েছে, সেই নামটাই অনুব্রতর মুখ থেকে বার করতে চাইছেন তাঁরা।
অনুব্রতকে নিয়ে ফ্যাসাদেও পড়ছেন ইডি আধিকারিকরা। নিজের বয়ানটুকু লেখেননি অনুব্রত। দাবি করেছেন তিনি নাকি লিখতে পারেন না। তাঁর বয়ান লেখাতে আরও এক নিরপেক্ষ সাক্ষীর সাহায্য নিয়েছে ইডি। ইডি হেফাজতে অনুব্রতর সঙ্গে দেখা করেছেন তাঁর আইনজীবী। দিল্লিতে অনুব্রতর শারীরিক পরীক্ষার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। জেরার সময়ে একবার অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন কেষ্ট। তড়িঘড়ি তাঁকে রামমনোহর লোহিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে ‘ফিট’ বলে জানিয়ে দেন। এদিন আদালতে অনুব্রতর শারীরিক অবস্থার বিষয়টিও তুলে ধরা হবে বলে জানা গিয়েছে।



