আদালতে হাজিরা দিতেই স্বস্তি ‘খান সাহেবে’র, আপাতত জেলযাত্রা থেকে মিলল রেহাই

নিজস্ব সংবাদদাতা: অবশেষে স্বস্তি পেলেন ইমরান খান । আপাতত আর জেলে যেতে হবে না তাঁকে। শনিবার আদালতে হাজিরা দিতেই পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে যে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল, তা বাতিল করে দেওয়া হল। এরফলে আপাতত ইমরান খানকে গ্রেফতার করতে পারবে না পাকিস্তান পুলিশ। উল্লেখ্য, গতকালই ইমরান খানের লাহোরের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। পিটিআই কর্মী-সমর্থকদের ভিড় টপকে, গেট ভেঙে, ব্যারিকেড সরিয়ে ইমরান খানের বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়ে পুলিশ। তাঁর বাড়ির ভিতর থেকে পেট্রোল বোমা, একে-৪৭ রাইফেল সহ বেশ কিছু অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ইমরান খানের আইনজীবী গোহর খান জানান, ইমরান খান হাজিরা দেওয়ার পরই আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা বাতিল করে দিয়েছে। আগামী ৩০ মার্চ অবধি এই মামলার শুনানি মুলতুবি করে দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রিয় বহুজাতিক সংস্থা কেনার পরিকল্পনা বাতিলর টাটার
দীর্ঘ টালবাহানার পর শনিবার অবশেষে লাহোর থেকে ৩০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ইসলামাবাদ আদালতে হাজিরা দিতে আসেন ইমরান খান। তবে আদালত চত্বরে পৌঁছনোর পর প্রথমে বেশ কিছুক্ষণ তিনি গাড়ি থেকেই নামতে পারেননি কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে। প্রায় ৪ হাজার পিটিআই সমর্থকরা আদালত চত্বরে জমায়েত করে পুলিশ কর্মীদের লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়েন। পাল্টা জবাবে পুলিশও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।
গত বছরের শেষভাগেই তোশাখানা মামলায় জড়িয়ে পড়েন ইমরান খান। পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, মূল্যবান উপহার গোপনে বিক্রি করে দেওয়ার। সে দেশের পুলিশ ও তদন্তকারীদের তরফে জানানো হয়, ইমরান খান যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, সেই সময়ে তিনি যে দামি উপহারগুলি পেয়েছিলেন, তা বিক্রি করে দেন এবং সেই টাকা নিজে হস্তগত করেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী হিসাবে পাওয়া কোনও উপহার বিক্রি করা যায় না। এই অপরাধেই ইমরান খানের বিরুদ্ধে তোশাখানা মামলা করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরেই এই মামলায় আদালতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ইমরান খানকে, কিন্তু তিনি বারংবার হাজিরা এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। আদালতে হাজিরা না দেওয়ার কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। বিগত দুই সপ্তাহ ধরেই ইমরান খানকে গ্রেফতার করতে একাধিকবার লাহোরের বাড়িতে হানা দিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু কোনওবারই তাঁকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ইমরান খানকে গ্রেফতার করতে গেলে পুলিশ ও ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টির কর্মী-সমর্থকদের মধ্য়ে ধুন্ধুমার হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। সংঘর্ষে এক পিটিআই সমর্থকের মৃত্যুও হয়।


