জাতীয়

৮ বছর নির্বাচনে লড়তে পারবেন না রাহুল, ওয়ানাডে উপনির্বাচন কি সময়ের অপেক্ষা?

নয়া দিল্লি: নিজের পায়ে নিজেই কুড়ুল মেরেছেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)! ২০২৯ সালে মোদী পদবি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় সুরাট আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেছে এবং দুই বছরের জন্য কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেছে। আর আদালতের রায় ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই খারিজ করা হয়েছে রাহুল গান্ধীর লোকসভার সাংসদ পদও (MP Post)। শুক্রবারই সংসদের সচিবালয়ের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। তবে রাহুলের বিপদের শেষ এখানেই নয়। সাংসদ পদ খোয়ানোর পাশাপাশি নির্বাচনে লড়ার অধিকারও হারিয়েছেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী, আদালতের তরফে সাজা ঘোষণার পর আট বছর নির্বাচনে (Election) লড়তে পারবেন না রাহুল গান্ধী। যদি সুপ্রিম কোর্ট বা উচ্চতর অন্য কোনও আদালত সুরাট আদালতের রায়ের উপরে স্থগিতাদেশ ঘোষণা করে, তবেই একমাত্র নির্বাচনে লড়ার সুযোগ পেতে পারেন রাহুল গান্ধী।

২০২৪ সালেই রয়েছে লোকসভা নির্বাচন। স্বাভাবিকভাবেই এই নির্বাচনে লড়ার কথা ছিল রাহুল গান্ধীর। কোন আসন থেকে তিনি লড়তে পারেন, তা নিয়েও একাধিক জল্পনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যাবতীয় পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়েছে শুক্রবার রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ খারিজ হওয়ার পর। নির্বাচনী আইন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সাংসদ পদ খোয়ানোর কারণে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে লড়তে পারবেন না রাহুল। শুধু তাই নয়, আগামী আট বছরের জন্য় তিনি কোনও বিধানসভা নির্বাচনেও লড়তে পারবেন না।

 

 বৈঠকের আগেই শহরে গম্বাউ, চাকরি হারিয়ে প্রতিক্রিয়া কনস্ট্যান্টাইনের

 

 

জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী, যদি কোনও সাংসদের দুই বছরের কারাদণ্ডের সাজা হয়, তবে তাঁর সংসদে সদস্যপদ খারিজ করে দেওয়া যেতে পারে। আর সাংসদ পদ খারিজ হলে যে দুই বছরের জন্য তিনি সাজা পাবেন এবং তাঁর মুক্তির পর ছয় বছর অবধি তিনি কোনও নির্বাচনে লড়তে পারবেন না। অর্থাৎ মোট আট বছর নির্বাচনে লড়তে পারবেন না রাহুল গান্ধী।  যদিও ওই আইনে উসকানিমূলক মন্তব্য, ঘৃণা ছড়ানো বা দুর্নীতির মতো অপরাধের কথা উল্লেখ করা থাকলেও, মানহানির উল্লেখ নেই।

এ ক্ষেত্রে রাহুল গান্ধীর নির্বাচনে লড়ার পথ একটাই। যদি তিনি উচ্চতর আদালত বা সুপ্রিম কোর্টে আর্জি করে তাঁর শাস্তির উপরে স্থগিতাদেশ জোগাড় করতে পারেন, তবেই তিনি নির্বাচনে লড়ার সুযোগ পাবেন।
অন্যদিকে, রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ খারিজ হয়ে যাওয়ার পরই তাঁর কেন্দ্র, কেরলের ওয়ানাডে উপনির্বাচন হতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে। যেহেতু রাহুল গান্ধী আর এই আসন থেকে সাংসদ নন এবং লোকসভার মেয়াদ আগামী বছরের জুন মাসে শেষ হচ্ছে, তাই জাতীয় নির্বাচন কমিশন এই আসনে উপনির্বাচনের ঘোষণা করতেই পারে। যদি চলতি লোকসভার মেয়াদ এক বছরের কম থাকত, তবে নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচন ঘোষণা করতে পারত না।

সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশন ওয়ানাডে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণার জন্য আগামী এক মাস অপেক্ষা করতে পারে। সুরাট আদালত রাহুল গান্ধীকে যে ৩০ দিনের জামিন দিয়েছে, ওই সময়টুকু অপেক্ষা করার পরই উপনির্বাচনের ঘোষণা করতে পারে কমিশন। অর্থাৎ আগামী জুন মাসেই ওয়ানাডে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন। মাঝের এই সময়ের মধ্যে রাহুল গান্ধী উচ্চতর আদালতে আর্জি জানিয়ে যদি সাজার উপরে স্থগিতাদেশ এবং স্পিকারের কাছ থেকে সাংসদ পদ ফিরিয়ে আনতে পারেন, তবেই উপনির্বাচন রোখা সম্ভব।

Related Articles

Back to top button