রাহুলের সাংসদ পদ খারিজের প্রতিবাদে রাস্তায় CPI(ML)

হুগলি : মোদী পদবি (Modi Surname) নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য় করায় শাসকের রোষানলে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। খুইয়েছেন সাংসদ পদ (MP Post)। ছাড়তে হয়েছে সরকারি বাসভবন। যা নিয়ে দেশজুড়ে চলছে চাপানউতর। কংগ্রেসের পাশাপাশি প্রতিবাদে সামিল হয়েছে অন্যান্য বিরোধী দলগুলি। প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিরুদ্ধে একজোট হয়ে সুর চড়িয়েছে বিরোধীরা। বিক্ষোভ চলছে গোটা দেশজুড়ে। রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ খারিজের ঘটনায় মোদীর কুশপুতুল পোড়ালো সিপিআইএম (লিবারেশন)। নীতি পৃথক হলেও রাহুলকে সাংসদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পিছনে মোদী তথা গোটা বিজেপি শিবিরের ফ্যাসিবাদী মনোভাব কাজ করছে বলে মনে করছে বিরোধীরা। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই নেওয়া হচ্ছে ব্যবস্থা। আম-আদমি থেকে সাংসদ রেহাই পাচ্ছেন না কেউই।
এরই প্রতিবাদে এদিন হুগলির চুঁচুড়ার চকবাজারে সিপিআইএম (লিবারেশন) প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিল। প্রধানমন্ত্রীর কুশপুতুল দাহ করে বিক্ষোভে সামিল হলেন সিপিআইএম (লিবারেশান) এর কর্মী-সমর্থকরা। সিপিআইএম (লিবারেশান) নেতা সুদর্শন বোস বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই এই ফ্যাসিবাদী শক্তি আক্রমণ শানাচ্ছে। সেটা জেএনইউ-র ছাত্র আন্দোলন হোক বা লেখক-লেখিকাদের হোক, মোদী বিরোধী কথা বললেই তাঁদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। দিল্লির বুকেও যাঁরা মোদী হটাও, দেশ বাঁচাও পোস্টার দিয়েছিল তাঁদের ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন টার্গেট রাহুল। সে কারণেই গোটা দেশেই আমরা আন্দোলনে নেমেছি। যাঁরা মোদী বিরোধী তাঁদের সকলকেই বলব আসুন একসঙ্গে এই ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলনে সামিল হই। এখন দেশের স্বাধীনতা বিপন্ন, গণতন্ত্র বিপন্ন। তাই নীতিগত পার্থক্য ভুলে একজোট হয়ে এই মোদীর বিরোধিতা করতে হবে।” এদিকে বিহারে বর্তমানে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট সরকারে রয়েছে সিপিআইএম (লিবারেশন)। জোটে রয়েছে আরজেডির মতো বড় দল। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে পঞ্চায়েত ভোটের আগে বাংলায় দাঁড়িয়ে লিবারেশনের এই আন্দোলন রাজনৈতিকভাবে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে রাহুল ইস্যুতে আবার মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বলেন, “নরেন্দ্র মোদীর নতুন ভারতে বিরোধী নেতারা বিজেপির প্রধান নিশানা! কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন অভিযুক্তেরা। কিন্তু বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে।”
নেত্রীর ধমক খেয়েই তড়িঘড়ি বৈঠকে বীরভূমের কোর কমিটি
প্রসঙ্গত, মোদী পদবি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য় করায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ফৌজদারী মানহানির মামলা করেছিলেন গুজরাটের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী পূর্ণেশ মোদী। সম্প্রতি এ মামলায় রাহুল গান্ধীকে দোষী সাব্যস্ত করে সুরাট আদালত। দুই বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। যদিও পরবর্তীতে জামিন পেয়ে যান।



