সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র রাতারাতি শাসকদলের পার্টি অফিস, বিক্ষোভের মুখে সাফাই তৃণমূলের

পূর্ব বর্ধমান : সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র রাতারাতি বদলে হয়ে গেল শাসকদলের (Trinamool Congress) দলীয় কার্যালয়। ক্ষুদ্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা দ্বারস্থ হলেন জেলাশাসকের। দায়ের করলেন লিখিত অভিযোগ। সূত্রের খবর, বর্ধমান ১ নম্বর ব্লকের রায়ান ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে নেড়ো দীঘিতে একটি মার্কেট কমপ্লেক্স আছে। ওই মার্কেটের একটি ঘরে পঞ্চায়েতের নিয়ন্ত্রণে দাতব্য চিকিৎসা কেন্দ্র চলতো। বছর দু’য়েক আগে দাতব্য চিকিৎসা কেন্দ্রের চিকিৎসক মারা যান। তারপর থেকে ওই চিকিৎসা কেন্দ্রের ঝাঁপ বন্ধ হয়ে যায়। দিন কয়েক আগে বর্ধমান উত্তরের বিধায়ক নিশীথ মালিক ওই মার্কেট কমপ্লেক্সের সামনে একটি উচ্চ বাতিস্তম্ভ বসিয়ে দেন। পাশাপাশি ওই দিনই বন্ধ হয়ে থাকা দাতব্য চিকিৎসা কেন্দ্রের ঘরে দলীয় কার্যালয়ের উদ্ধোধন করেন বিধায়ক। গোল বাধে এখানেই।
এ ঘটনাতেই এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি সরব হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের কর্মী- সমর্থকরা। এলাকার তৃণমূল কর্মীদের দাবি, এতে দলের বদনাম হচ্ছে। এলাকার তৃণমূল কর্মী সেখ কমল বলেন, “এটা কখনওই মেনে নেওয়া যায় না। এখানে এক টাকায় মানুষ চিকিৎসা পেতেন। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের ঝাণ্ডা লাগিয়ে দলের বদনাম করা হচ্ছে।” রায়ান ১ নম্বর পঞ্চায়েতের প্রধান আলমগীর হাসান বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখব। যদি সত্যি হয় তাহলে ওদেরকে বলব উঠে যেতে। আমরা ওখানে ফের দাতব্য চিকিৎসা কেন্দ্র খুলব।”
‘আপনারা কেন রুচি নষ্ট করেন?’ ফেসবুকে আত্মহত্যার হুমকি হিরো
বর্ধমান ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি তথা বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান কাকলি তা র সাফাই, “আমি ওইদিন উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু সাইনবোর্ডের দিকে তাকিয়ে দেখিনি। তবে পরদিন জানতে পেরেছি। তারপরই ওদের বলেছি ওখানে দলের কোনও কাজকর্ম করা যাবে না।” খানিক একই সুর রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাসের গলায়। তিনি বলেন, “নিশ্চয় পঞ্চায়েত ঘর ভাড়া দিয়েছে।” ঘটনায় শাসকদলকে নিশানা করে তোপ দেগেছে বিজেপিও। এই নিয়ে সদর জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, “সরকারি সম্পত্তিতে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় হচ্ছে। এর থেকে লজ্জার কিছু নেই।”



