ঈশ্বর-আল্লা-তেরে নাম, সবকো সুমতি দে ভগবান: মমতা

খেজুরি: সোমবার জেলা সফরে পূর্ব মেদিনীপুর পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনদিনের সফরে সেখানে গিয়েছেন মমতা। এ দিন খেজুরির সভা থেকে নাম নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে আক্রমণ শানান তিনি। খেজুরি, নন্দীগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে চাঁচাছোলা ভাষায় কটাক্ষ করেন। এমনকী একুশের নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী নিজের পা ভেঙে যাওয়ার কাহিনীও পুনরায় উথ্থাপন করেন।
আজ আরও একবার নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে ‘গদ্দার’বলে মুখ্য়মন্ত্রী মনে করালেন একুশের বিধানসভা ভোটের ঘটনা। তিনি বলেন, “এখন অনেকে বলছে নন্দীগ্রামে ঢুকতে দেব না। এখানকার ছেলেমেয়েদের জেলে পাঠিয়েছে তাঁরা। নির্বাচনের পরে নাকি ‘বাবুর’ গায়ে আঁচড় লেগেছে। একটুও লাগেনি। নন্দীগ্রামে ভোটে লড়তে এসে ওরা আমার পা ভেঙে দিয়েছিল। এখনও দাগ রয়েছে। ভাল হয়নি। পুরো ফুলে গিয়েছিল। তারপরও আমি চ্যালেঞ্জ করে হুইলচেয়ার নিয়ে মিছিল করেছিলাম।” বস্তুত, ২০২১ এর ১০ মার্চ বিধানসভা ভোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন বিরুলিয়ায় পায়ে আঘাত পেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তা নিয়ে তীব্র শোরগোল শুরু হয় রাজ্য রাজনীতিতে। তাঁর আঘাতের পিছনে বিজেপির ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে দাবি করেছিলেন মমতা। তার পর প্রকাশ্য সভা থেকে এই আঘাতের জন্য তিনি সরাসরি দায়ী করেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। এ দিনের সভা থেকে ফের সেই কাহিনী মনে করান মুখ্যমন্ত্রী।
‘চিদম্বরম ও শিবকুমারের সঙ্গে কতজন ছিলেন’, কংগ্রেসের পরিবারবাদ নিয়ে সুর চড়ালেন অনুরাগ
এখানেই শেষ নয় নন্দীগ্রামের ইতিহাস নিয়ে খোঁচা দিতে গিয়ে মমতা বলেন, “ন্দীগ্রামে সূর্যোদয়ের নামে দশদিন কাউকে বেরতে দেওয়া হয়নি। ১৪ মার্চ যখন গুলিতে মারা গিয়েছিল, সেই সময় খেজুরি দিয়ে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হত না। সেই সময় গদ্দাররা মাঠে ছিল না। লুকিয়ে বসেছিল। আমি সেই সময় ২৬ দিন অনশন করেছিলাম। ১৪ মার্চের গুলিকাণ্ডের পর আমি ছুটে এসেছিলাম।”
মমতার কথায়,”যাঁরা আমাদের থেকে খেয়ে গিয়ে এখন আমাদের বদনাম করছেন আমি তাঁদের জন্য শুধু বলি ঈশ্বর-আল্লা তেরে নাম, সবকো সুমতি দে ভগবান, আমি বলি আল্লা তালা দোয়া করো যেন আমি সহ্য করতে পারি, ঈশ্বরকে বলি যেন সহ্য করতে পারি।”



