স্ট্যালিনের বিরুদ্ধে ১৩৪ লক্ষ কোটি টাকার বেহিসাবি সম্পত্তির অভিযোগ, ‘ডিএমকে ফাইলস’ প্রকাশ বিজেপির

চেন্নাই: শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) ‘ডিএমকে ফাইলস’ প্রকাশ করলেন তামিলনাড়ুর বিজেপি প্রধান কে আন্নামালাই। এদিন তিনি এক সাংবাদিক বৈঠক করে, ১.৩৪ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদের একটি দীর্ঘ তালিকা প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, এই বিপুল বেহিসেবি সম্পত্তির মালিক ডিএমকে নেতারা। যার মধ্যে রয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্টালিনের ছেলে তথা রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী উদয়নিধি স্ট্যালিনও। এছাড়া তালিকায় নাম রয়েছে দুরাই মুরুগান, ইভি ভেলু, কে পোনমুডি, ভি সেন্থিল বালাজি, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এস জগতরক্ষকন-সহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর। সাংবাদিক বৈঠকে আন্নামালাই বলেন, “আজ আমরা ডিএমকে ফাইলস পার্ট ১ প্রকাশ করলাম। গোটা বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে আমরা এটা প্রকাশ করব। এখন আমরা শুধুমাত্র তাদের ডিরেক্ট অ্যাসেট প্রকাশ করলাম। এর মধ্যে বিভিন্ন সংস্থায় তাদের শেয়ার হোল্ডিং এবং তাদের নিজ নিজ সম্পত্তির মূল্যায়ন প্রকাশ করা হয়েছে।”
এখানেই থামব না
বিজেপি সভাপতির আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন। আন্নামালাই অভিযোগ করেন, ডিএমকে ক্ষমতায় থাকাকালীন ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে চেন্নাই মেট্রো রেলের জন্য চুক্তি পাইয়ে দিতে একটি সংস্থআর কাছ থেকে ২০০ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছিল ডিএমকে সরকার। আন্নামালাই বলেন, “ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে পেমেন্ট দেওয়া হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ওই সংস্থাটির বিরুদ্ধে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে তদন্ত করা হচ্ছে।” তিনি আরও জানিয়েছেন, জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকেই রাজ্য ব্যাপী একটি পদযাত্রা করবে বিজেপি। সেই পদযাত্রার মধ্য দিয়ে শুধু ডিএমকে নয়, সকল বিজেপি বিরোধী দলের দুর্নীতিরই বিরোধিতা করবে বিজেপি। তামিল নাড়ুর জনগণের সামনে সবার দুর্নীতি ফাঁস করে দেবে। আন্নামালাই বলেন, “এটা কোনও একটি দলের বিরুদ্ধে লড়াই নয়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই। আমি এখানেই থামব না।”
প্রাপ্য ১.১৫ লক্ষ কোটি টাকা দিন, রাজনীতি থেকে সরে যাব: অভিষেক
আন্নামালাইয়ের ঘড়ি বিতর্ক
আন্নামালাইয়ের ড্যাসল্ট সংস্থার তৈরি একটি বহুমূল্য ঘড়ি আছে। ওই ঘড়ি কেনার টাকা কোথা থেকে এসেছে, তাই নিয়ে মাস কয়েক আগে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। রাজ্যের বিদ্যুৎ মন্ত্রী সেন্থিল বালাজি ঘড়িটির রসিদ দেখানোর দাবি করেছিলেন। আন্নামালাইয়ের দাবি, ২০২১ সালের মে মাসে চেরালাথান নামে এক বন্ধুর কাছ থেকে তিন লক্ষ টাকার বিনিময়ে তিনি ওই ঘড়িটি কিনেছিলেন। বিজেপি সভাপতি চেরালাথানের কাছ থেকে ঘড়িটি কেনার একটি রসিদ দেখিয়েছেন, কিন্তু, ওি ঘড়ি ক্রয়ের জন্য অর্থপ্রদানের কোনও প্রমাণ তিনি দিতে পারেননি। সেন্থিল বালাজির সেই দাবির প্রেক্ষিতেই এদিন, আন্নামামালাইকে পাল্টা ডিএমকে নেতাদের সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করলেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এটা রসিকতা
তবে, তাঁর সকল অভিযোগই উড়িয়ে দিয়েছেন ডিএমকে নেতারা। ডিএমকে সাংসদ আরএস ভারতী আন্নামালাইয়ের অভিযোগগুলিকে ‘রসিকতা’ বলেছেন। তিনি বলেন, “ঘুষ দেওয়ার অভিযোগের কোনও সত্যতা নেই। তিনি যে সকল ব্যক্তিকে তালিকাভুক্ত করেছেন, তাঁরা সকলেই তাঁদের হলফনামায় তাঁদের নিজ নিজ সম্পদের বিবরণ দিয়েছেন। যদি একটি ক্ষেত্রেও আইন ভাঙা হয়ে থাকে, তাহলে যে কোনও নাগরিক তাঁদের নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। আমাদের সমস্ত নেতা এই অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতে যাবেন। আন্নামালাই আসলে, আদানি-হিন্ডেনবার্গ রিপোর্ট এবং অরুধ্রা কেলেঙ্কারি থেকে মনোযোগ সরানোর চেষ্টা করছেন। তাঁর অভিযোগে ডিএমকের কোনও ক্ষতি হবে না।”


