জাতীয়

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক ৬৫-র প্রৌঢ়কে কামড়ে কামড়ে মেরে ফেলল ৭টি পথকুকুর

লখনউ: রবিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে উত্তরপ্রদেশের আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিকে কামড়ে কামড়ে মেরে ফেলল এক দল পথ-কুকুর। এদিন ভোরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের একটি পার্কে ঘোরাফেরা করছিলেন ওই ব্যক্তি। আচমকা ওই কুকুরের দল তাকে ঘিরে ধরে আক্রমণ করে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তারা। সেই সিসিটিভি ভিডিয়ো ফুটেজে দেখা যায়, নিহত ব্যক্তিকে কোনও প্ররোচনা ছাড়াই আক্রমণ করে ককুরের দলটি। পার্কের মধ্যে তাঁকে মাটিতে ফেলে একের পর এক কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করে দেয়। তাঁর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিকটবর্তী এক সরকারি হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তির নাম ডা. সফদর আলি। ৬৫ বছর বয়সী এই ব্যক্তি কোনওভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা জানা যায়নি। এদিন সকালে তিনি ক্যাম্পাসে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। সকাল সাড়ে ছটা নাগাদ এএমইউ ক্যাম্পাসের সিভিল লাইন এলাকায় কুকুরের হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়। সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ পার্কে তাঁর দেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, নীল রঙের পাঞ্জাবি এবং সাদা পায়জামা পড়ে পার্কে হাঁটাহাঁটি করছেন ডা. সফদর আলি। এক সময় তাঁকে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোন ঘাঁটতে দেখা যায়। আচমকা উল্টো দিকের রাস্ত থেকে দুটি কুকুর তাঁর কাছে ছুটে আসে। মোবাইলে ব্যস্ত ওই ব্যক্তি কুকুরগুলির দিকে তাকাননি পর্যন্ত। এরপর আশপাশ থেকে আরও তিনটি কুকুর ছুটে আসে সেখানে। একটি কালো রঙের কুকুর এগিয়ে গিয়ে পিছন থেকে ওই ব্যক্তির পায়ে কামড় দেয়। এরপরই কুকুরগুলির দিকে নজর যায় সফদর আলির। ততক্ষণে সেখানে হাজির হয় আরও দুটি কুকুর। সাতটি কুকুর মিলে কোনঠাসা করে ফেলে ওই ব্যক্তিকে। প্রথম দিকে কুকুরগুলিকে তাড়ানোর চেষ্টা করেছিলন তিনি। কিন্তু, একসময় ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান। সফদর আলি মাটিতে পড়ে যেতেই তার হাত, ঘাড়, পিঠে একের পর এক কামড় দিতে থাকে কুকুরগুলি। রীতিমতো তাঁকে ধরে টানাটানি করতে থাকে কুকুরগুলি। মাঝে একবার তিনি ওঠার চেষ্টাও করেছিলেন, কিন্তু, কুকুরগুলি তাঁকে ফের মাটিতে ফেলে দেয়।

 

ভোররাতে পঞ্জাবের সীমান্ত এলাকায় ‘পাক’ ড্রোনের হানা, উদ্ধার প্রচুর হেরোইন

 

সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজের শেষ পর্যন্ত ডা. সফদর আলিকে নড়াচড়া করতে দেখা যায়। তবে জানা গিয়েছে, তারপরই ধীরে ধীরে তিনি নেতিয়ে পড়েন। কুকুরের হামলায় আহত বা নিহত হওয়ার ঘটনা উত্তরপ্রদেশে এটাই প্রথম নয়। গত বছর থেকে উত্তর প্রদেশে একের পর এক পথ কুকুর এবং পোষ্য কুকুরের হামলার ঘটনা ঘটেছে। যার জেরে, গাজিয়াবাদের জেলা প্রশাসন তিনটি জাতের কুকুর পোষা নিষিদ্ধ করেছে। এই তিনটি জাত হল – পিটবুল, রটওয়াইলার এবং ডোগো আর্জেন্টিনো। তবে, তারপরও কুকুরের হামলার ঘটনা থামেনি। বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে পথকুকুরদের দিকেও অভিযোগ উঠেছে। এবার অলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির মতো বড় মাপের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরেই এই ঘটনা ঘটল। এর ফলে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।

Related Articles

Back to top button