হাল ফিরছে কি লালের! রামপুরহাট, চাঁচল, রায়দিঘির পর লাভপুরে শতাধিক তৃণমূলী সিপিএম-এ

লাভপুর: সাগরদিঘি উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীকে হারিয়ে বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থীর জয় অক্সিজেন দিয়েছিল বাম-কং শিবিরকে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন সমবায় নির্বাচনে জয় পেয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে বামেরা। রাজ্যের বেশ কয়েকটি জায়গায় তৃণমূল, বিজেপি ছেড়ে সিপিআইএমে যোগ দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছে। বুধবার বীরভূম জেলার লাভপুর ব্লকের অন্তর্গত হাতিয়া গ্রামে তৃণমূল এবং বিজেপি ছেড়ে শতাধিক মানুষ যোগদান করল সিপিএমে। যে সমস্ত মানুষ তৃণমূল ছেড়ে সিপিএমে যোগদান করলেন তাঁদের দাবি, বর্তমান রাজ্য সরকারের সময়ে অফিস, আদালতে কোনও কথা বলা যায় না। সমস্ত জায়গায় টাকা পয়সা নেওয়া হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের সঙ্গেও কথা বলা যায় না। তাঁরা মারধরেরও হুমকি দেয়। এর থেকে বাম আমল ভাল ছিল। সে কারণেই তাঁরা ফের বামশিবিরে যোগদান করলেন। বুধবার তাঁদের হাতে বামেদের দলীয় পতাকা তুলে দিলেন সিটু-র বীরভূম জেলার সম্পাদক দীপঙ্কর চক্রবর্তী।
রাজ্যের শাসক শিবিরের উপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে লাভপুরে গ্রামবাসীদের সিপিএমে ফেরা নিয়ে সিটু-র বীরভূম জেলার সম্পাদক দীপঙ্কর চক্রবর্তী বলেছেন, “তৃণমূল কংগ্রেস ভীষণ ভাবে দুর্নীতি করছে। ঘুষ খাচ্ছে। গরু, বালি, কয়লা, পাথর কোনও কিছুই বাদ দিচ্ছে না। আর মানুষের উপর অত্যাচার করছে। এদের উপর মানুষ ক্ষুব্ধ, বীতশ্রদ্ধ। এ জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচতে, মানুষকে বাঁচাতে ১০০-র বেশি পরিবার তৃণমূল, বিজেপি ছেড়ে সিপিএমে যোগ দিলেন।”
সাম্প্রতিক অতীতে সিপিএমে যোগ
সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে সিপিএমে যোগদানের বেশ কয়েকটি ঘটনা সামনে এসেছে। এ মাসের শুরুতেই নদিয়া জেলার তেহট্ট এলাকার একটি গ্রামের অন্তত ৬০টি পরিবার তৃণমূল ছেড়ে যোগ দিয়েছিল সিপিএমে। সিপিএম সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বীরভূমের রামপুরহাট ২ নম্বর ব্লকে ১০০টি পরিবার যোগ দেয় সিপিএমে। দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জেও একই ঘটনা ঘটেছিল। আলিপুরদুয়ারে জটেশ্বর গুয়াবনজগে ৪৫০ জন বাম শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। মালদহের চাঁচলের জালালপুরেও ২২৫ পরিবার সিপিএমে ফিরেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘিতে ৪০০ জন বাম শিবিরে এসেছে। তবে এই সব যোগদানে সিপিএমে বেনোজল ঢুকছে না বলে মনে করেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। জীবনযাত্রা, চলাফেরা দেখেই দলে নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
ছেলের অত্যাচারে বাড়ি ছাড়া মুকুল! বিস্ফোরক অভিযোগ দিলীপের, সত্যিটা জানালেন শুভ্রাংশু
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া
তৃণমূল ছেড়ে বিভিন্ন জেলায় সিপিএমে যোগ দেওয়াকে গুরুত্ব দিচ্ছে না রাজ্যের শাসক শিবির। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেন এ ব্যাপারে বলেছেন, “যে কটা জায়গায় তৃণমূল ছেড়ে সিপিএম বা কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন, তার থেকে অনেক বেশি লোক অন্য রাজনৈতিক দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন। কংগ্রেস সিপিএম, বিজেপির সাহায্যে শূন্য থেকে এক হয়েছে। আগামী দিনে আবার শূন্যে বিলীন হয়ে যাবে। সিপিএম তো শূন্য হয়েই আছে। শূন্যের সঙ্গে শূন্য যোগ করলে শূন্যই হয়। কুঁজোর তো চিত হয়ে শোওয়ার স্বপ্ন জাগে। দিবা স্বপ্ন তারা দেখতে পারে। সিপিএমকে দেখলে এখনও মানুষের সুশান্ত ঘোষের মাটির নীচে নরকঙ্কাল, বর্ধমানের সাঁইবাড়িতে খাবার থালায় কাটামুণ্ডু, সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম, ছোট আঙাড়িয়া, গড়বেতা, কেশপুর মনে পড়ে যায়। তাই মানুষ বলছে, ৩৪ বছর অনেক করেছ। আরও ৩৪ বছর অপেক্ষা করো। তার পর কথা হবে।”



