তৃণমূল রাজ্য সম্পাদকের পথ থেকে অপসারিত কুনাল ঘোষ
বুধবার সকালেই প্রাক্তন তৃণমূল নেতা এবং অধুনা বিজেপির উত্তর কলকাতার প্রার্থী তাপস রায়ের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর প্রশংসা করেছিলেন কুণাল। তারও দিন কয়েক আগে কুণালের করা একটি টুইট নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কারণ রাজনীতির কারবারিরা মনে করেছিলেন, নাম না করলেও কুণালের তিরের লক্ষ্য ছিলেন ঘাটালের তৃণমূল প্রার্থী দেব। পাঁচ দিনের মধ্যে পর পর এই দুই ঘটনাই যে কুণালের বিরুদ্ধে গিয়েছে, তা স্পষ্ট তৃণমূলের দেওয়া ওই বিবৃতিতেই।
কুণাল ঘোষকে দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দিল তৃণমূল। বুধবার একটি বিবৃতি জারি করে এই ঘোষণা করেছে রাজ্যের শাসকদল। একই সঙ্গে এ-ও জানিয়েছে, কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।
বিবৃতিতে তৃণমূল লিখেছে, ”সম্প্রতি কুণাল ঘোষ এমন অনেক কথা বলছিলেন, যা দলের মতামতের সঙ্গে মেলে না। তাই এটা বোঝানো অত্যন্ত দরকার ছিল যে, উনি যা বলছেন, তা সম্পূর্ণ ভাবে তাঁর ব্যক্তিগত অভিমত।
কারণ তৃণমূল তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, এখন থেকে তৃণমূলের সদর দফতর থেকে জারি করা বিবৃতিকেই দলের বক্তব্য বলে ধরতে হবে। সংবাদমাধ্যমকেও তৃণমূল অনুরোধ করেছে, কুণালের বক্তব্যকে যেন দলের বক্তব্য হিসাবে গ্রহণ না করা হয়। সে ক্ষেত্রে তৃণমূল আইনি পদক্ষেপ করতে পারবে বলেও জানানো হয়েছে ওই বিবৃতিতে।
দলের তরফে বুধবার বিকেলে জারি করা ওই বিবৃতিতে সই রয়েছে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা জাতীয় মুখপাত্র ডেরেক ও’ব্রায়েনের।
রবিবার কুণালের বিতর্কিত টুইটটিও ছিল ইঙ্গিতপূর্ণ। তিনি লিখেছিলেন, ”দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে দলবদল সমর্থনের। বিশ্বাসঘাতকেরা আমাদের দলের নেতানেত্রীর বিরুদ্ধে কুৎসা করলেও তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত আদিখ্যেতা করে নিজের ইমেজকে সর্বপন্থী উদার রাখার চেষ্টার নাম সৌজন্য। আর বিশ্বাসঘাতক দলবদলুদের ‘গদ্দার’ বলা হলে সেটা আপত্তির!” এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগেই দেব এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী তাঁর পিতৃতুল্য। তাঁর সম্পর্কে ‘গদ্দার’ বলা হলে তাঁর আপত্তি রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, মিঠুনের কিডনির প্রয়োজন হলে নিজের কিডনি দিয়ে দিতে পিছপা হবেন না বলেও জানিয়েছিলেন দেব। স্বাভাবিক ভাবেই কুণালের এই পোস্টের গূঢ়ার্থ বুঝতে অসুবিধা হয়নি রাজনীতিবিদদের।
বুধবার দলের তরফে কুণালকে অপসারণের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার পর তাপস এবং দেব দু’জনেরই বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছিল। তাপস যেখানে কুণালের বক্তব্যের বিরোধিতা না করে বরং প্রচ্ছন্ন ভাবে তাঁর বক্তব্যের সমর্থনই করেছেন, সেখানে দেব কুণালের অপসারণের খবর শুনে শুধুই হেসেছেন এবং ইশারায় জানিয়েছেন, তিনি এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করবেন না।
কিন্তু কুণাল ঠিক কী কী বলেছিলেন, যা দলের নীতির পরিপন্থী? বুধবার সকালে উত্তর কলকাতার ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে একটি ক্লাবের রক্তদান শিবিরে আমন্ত্রিত ছিলেন তাপস এবং কুণাল দু’জনেই। তাপসের উপস্থিতিতেই কুণাল সেখানে বক্তৃতা করেন। বক্তৃতাতে কুণাল কিছুটা প্রশংসার সুরেই বলেন, ”তাপস রায় যত দিন জনপ্রতিনিধি ছিলেন, তত দিন মানুষকে পরিষেবা দিয়েছেন। দিন-রাত তাঁর দরজা মানুষের জন্য খোলা থাকত। মানুষ যখন তাঁকে ডেকেছেন তখন পেয়েছেন।” কুণাল এ-ও বলেন, ”এলাকার মানুষকে ঠিক করতে দিন, কাকে তাঁরা প্রার্থী হিসাবে বেছে নেবেন। ছাপ্পা ভোট যেন না হয়।”



