দৈনিক কাগজের সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় সরদারের অনাহারে মারার ও এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা অব্যাহত

ন্যায় বিচার পাওয়া তো দূরের কথা, অভিযোগ করার কোন জায়গা নেই। পুলিশ প্রশাসন সর্বদাই শাসক দলের নেতাকর্মীর আঙ্গুর হেলানিতেই চলছে। কে সাংবাদিক কে বা কাগজের সম্পাদক তার পরিবারের কি হচ্ছে না হচ্ছে সেসব কিছু যায় আসে না প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের। শুধু সাংবাদিক নয় তার লেখা নটি বই বাজারে ভিন্নভাবে স্থান পেয়েছে। এখানেই শেষ নয়,তিনি দৈনিক কাগজের সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় সরদার। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলায় ক্যানিং ২ নম্বর ব্লকের অধীনে আঠারবাকি অঞ্চলে হেদিয়া গ্রামসভায় তিনি জন্মান ,এখানে বড় হয়েছে আজও সেই গ্রামেই থাকেন। ছোট থেকে তিনি অন্যায় বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে নিজের জীবনের সত্যের পথে প্রতীক করেছেন। পড়াশোনা শিখে তিনি সংবাদ মধ্যমের কাজের সাথে যুক্ত হয়েছিলেন ২০০৪ সাল থেকেই। তার পরিচালনায় বহু শর্ট ফিল্মও রয়েছে। তিনি একটা সময় চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আজও তাকে চলচ্চিত্র জগতের ছোটখাটো ভূমিকা দেখতে পাওয়া যায়।

বর্তমানে তিনি দৈনিক সারাদিন নামে একটি কাগজের সম্পাদক। তাঁর কলমে সত্য খবর প্রকাশ পাওয়ার পরেই তার জীবনে তার পরিবারের উপরে ক্রমাগত আক্রমণ ও অত্যাচার অবিচার শারীরিক মানসিকভাবে বিপর্যয় শুরু হয়েছিল বামফ্রন্ট থাকাকালীন। ক্রমাগত সেটা যেন বেড়েই চলেছে তবে প্রশাসনের ভূমিকা সর্বদাই নীরব রয়েছে, হাজার প্রমাণ থাকার পরেও প্রশাসন কোনোভাবেই এই পরিবারটাকেই কোন কিছু ন্যায় বিচার পাচ্ছে না, উল্টে প্রাণে মারার পরিকল্পনায় দিনের পর দিন বেড়ে চলেছে। এখানেই শেষ নয় অনাহারে মারার পরিকল্পনা দীর্ঘ কুড়ি বছর ধরেই চলেছে। সবকিছু শাসক ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের আঙ্গুল হেলানিতেই হচ্ছে। সমস্ত ঘটনা একাধিক ভাবে জানিয়েছে প্রশাসনকে,পুলিশ প্রশাসন তদন্ত তো দূরের কথা মনগড়া রিপোর্ট জমা দিচ্ছে কলকাতা হাইকোর্টে। সত্যি কথা তুলে ধরছো না। হাইকোর্টের রায় থাকার পরেও প্রশাসন নিরাপত্তা দিতেও রাজি নয় । প্রমাণ যদি উদাহরণস্বরূপ তুলে ধরা হয়, সেটি উল্লেখযোগ্য রয়েছে ২০০৭ সালে জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইনে লোকায়ুতে জানিয়েছিলেন লেখক, সাংবাদিক ও সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় বাবু, সেই সময় সিআইডি তদন্ত হয়ে নিরাপত্তা দিতে বলেছিল, তবে নিরাপত্তা তো দেওয়া দূরের কথা আজও তাকে তিলে তিলে মারার পরিকল্পনা অব্যাহত রয়েছে। তার বাড়িতে বোম মেরে উড়িয়ে দেওয়ার মতন পরিকল্পনা হয়েছিল ২০১৬ সালে ভোট গণনার পরের দিনে। তার উপরে গুলি চালানো হয়েছিল বাড়ির পিছনে বোমা মারা হয়েছিল, সমস্ত ঘটনা পুলিশকে জানিয়েছিল কিন্তু কোন সূরা মেলেনি। বাড়িঘর জমি জায়গা সবই দখল নেয়া হয়েছিল লুটপাটের করেছিল। ২০১০ সালের বামফ্রন্টের সময় তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে হত্যা করার চেষ্টা হয়েছিল বাসন্তী থানা এরিয়াতে। এখানে শেষ নয় একাধিকবার বাড়ির মধ্যে এসে রাতের অন্ধকারে খুন করার চেষ্টা চালিয়েছে ২০১০ সাল থেকে আজকের দিন পর্যন্ত। এখানে শেষ নয় প্রতি বছর তাদেরকে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যয় পরিবারটা যাতে অনাহারে মারা যায় সেই চেষ্টা আজও চলছে, এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রতিবছর দু থেকে তিনবার মাছ চাষের ভেরি, পুকুর, সর্বোচ্চ মাছ চাষের জায়গায় বিষ বা কীটনাশক দিয়ে সমস্ত মাছ মেরে দেয়া হয়।
গতকাল রাতে পুনরায় সেই ঘটনা পুনরাবৃত্তি হয়েছে হাইকোর্ট থাকার সত্বেও। বলে রাখাই ভালো সম্পাদক পরিবারের ছোট থেকে মাছ চাষ করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে, সেখানে বরাবরই কুড়ি বছর ধরে আঘাত হানছে। এখানে শেষ নয়, রাজনৈতিক ছত্র ছায়ায় থাকা মদতপুষ্ঠ দুষ্কৃতীরা তাকে হত্যা করার পরিকল্পনা অব্যাহত রেখেছে। তবে রাখে হরি মারে কে ,তাকে বারবার ভগবান মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছে। এই পরিবারের সম্পদ বছরের পর বছর ভিন্নভাবে লুট করছে, জীবনতলা থানার পুলিশ সব কিছু জানে ও বোঝে পারে। তবে অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে সঠিক কোন পদক্ষেপ আজও নেইনি, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার চাপে পড়ে। তবে এ নিয়ে উচ্চ আদালতে দারস্ত হয়েছে সম্পাদক নিজে, হাইকোর্টের রায় থাকার সত্বেও গতকাল রাতে পুনরায় সম্পাদকের পুরাতন বাড়িতে মাছ চাষের ভেরীতে বিষ দিয়ে সমস্ত মাছ নষ্ট করা হয়। এইভাবে বছরে লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে দীর্ঘ কুড়ি বছর এই পরিবার। শুধু কাগজের সম্পাদক সাংবাদিক ও লেখার কারণে আজ এই পরিণতি। রাস্তাঘাটে সম্পাদকের পরিবারের কোনো সদস্য বের হলে হুমকি হেনস্তা শারীরিকভাবে আক্রমণ হতে হচ্ছে ভিন্নভাবে।
সম্পাদকের বাচ্চা মেয়েটিও স্কুলে যাওয়ার সময় তাকে হেনস্তায় শিকার হতে হচ্ছে প্রতি পদক্ষেপে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ও তার দলের লোকেরাই সর্বদাই সৎ সাহসী ও নির্ভীক সাংবাদিক সম্পাদক এবং লেখকের মুখ বন্ধ করতে এই অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় সরদার জানিয়েছে উচ্চ আদালতের উপরে আমার ভরসা রয়েছে, ন্যায়বিচার আমি পাব। তিনি যতদিন বাঁচবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সারা জীবন কলম ধরবে,সে হুমকি বা থ্রেট যতই দিক তাকে, যতই ভাবে অনাহারে পরিবারকে মারতে চাইলেও সত্য কথা লিখতে তিনি এক পা পিচু ঘটবে না। সত্যের জন্য তিনি সারা জীবন এইভাবে কলম ধরবে। তিনি এ ও বলেন যে আমি দেখতে চাই আইনের জোর বেশি, না দুষ্কৃতীরা জোট-জুলুমের রাজত্ব জোর বেশি । তিনি ইও দেখতে চান দুষ্কৃতিদের দিয়ে জোর জুলুম করে কত দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় রাজত্ব চালাতে পারে। আর কতজন সম্পাদককে এইভাবে অনাহারে মারা ওখুনের পরিকল্পনা করতে থাকে। তবে বাংলার মানুষ আর মুখ বুজে সহ্য করছে না ,দিনের প্রকাশ্যে আলোতেই বোঝা যাচ্ছে প্রতিবাদের সুর বাংলা জুড়ে। সমস্ত মানুষ একদিন ন্যায় বিচার পাবে তার অপেক্ষায় রয়েছে সম্পাদক ও সাংবাদিক পরিবার । তারা ভগবানের উপরে ভরসা রেখেই জীবন যাপন করছে দীর্ঘ কুড়ি বছর। তাই জীবন যুদ্ধের লড়াইয়ে হার মানতে রাজি নয় তার পরিবার।



