রাজ্য

এসআইআরের কাজের জন্য রাজ্যের কোনো প্রকল্পের উন্নয়নের কাজ ব্যাহত করা যাবে না! 

বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কড়া বার্তা মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ -এর

 

ব্যুরো রিপোর্ট, হাওড়া: সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ সরাসরি “এসআইআর” ইস্যু উল্লেখ না করেই নির্দেশ দিয়েছেন— বিকল্প কোনও কাজের ‘অজুহাতে’ রাজ্যের কোনো সরকারি প্রকল্প -এর কাজ ব্যাহত করা যাবে না। বরং এই সময়, প্রতিটি দপ্তরের প্রধান কার্যালয় থেকে সেক্রেটারী বা প্রিন্সিপাল সেক্রেটারী দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; জেলা অফিস, ডিস্ট্রিক ম্যাজিস্ট্রেট এমনকী বিডিও দের সঙ্গে রোজ সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রতিদিনের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজের খতিয়ান নিতে হবে। কোথায়, কোন প্রকল্পের কাজ কী কারণে থমকে আছে, কোনো উপভক্তা তার প্রাপ্য সম্মান সঠিকভাবে পাচ্ছেন কিনা তা দেখা এমনকী এমন কোনো উপভোক্তা যিনি মারা গেছেন কিন্তু তার নাম কাটানো হয়নি; ইত্যাদি বহু বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খ তদারকী করা এবং প্রতিদিনের রিপোর্ট আপডেট করা এই মুহূর্তে বাধ্যতামুলক। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে রাজ্যের একাধিক প্রকল্পের কাজের বিপুল অগ্রগতি করে ফেলতে চাইছে নবান্ন। শনিবার নবান্নে জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করে কার্যত তা স্পস্ট করলেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) কাজ শুরু হওয়ার পর রাজ্য প্রশাসনের কাজে বিশাল চাপ পড়েছে। এমন অবস্থায় রাজ্যের একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ যাতে কোনও ভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, এই কারণেই সরাসরি নির্দেশ দিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব।

নবান্ন সূত্রের খবর, মুখ্যসচিবের বার্তায় উপস্থিত আধিকারিকরা বুঝে নেন, এই নির্দেশ কার্যত এসআইআরের কাজের বাড়তি চাপকে ‘লক্ষ্য’ করেই। প্রশাসনের একাংশের সূত্রের দাবি, মুখ্যসচিব স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন— ‘আমার পাড়া, আমার সমাধান’ কর্মসূচিতে যে সব জনদাবি উঠেছে, সেগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে এবং কাজের অগ্রগতির এমআইএস ডাটা রিপোর্ট পাঠাতে হবে নবান্নে। একই সঙ্গে রাজ্যের ১৫টি জনহিতকর বিভিন্ন দফতরের প্রকল্পের কাজ যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, সেদিকেও কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে।

অন্য দিকে, রাজ্যে এসআইআর চলাকালীন বিএলও এবং সাধারণ মানুষের মৃত্যু নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের দাবি— এসআইআর আতঙ্কেই এ সব হচ্ছে, এর দায় কমিশনের। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি পাঠিয়েছেন। এমনকী এসআইয়ার কাজের চাপে ২ জন বিএলও- র মৃত্যুর ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মৃতদের পরিবারকে এক লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।

 

Related Articles

Back to top button