জাতীয়রাজ্য

এসআইআর এর বিরুদ্ধে একাধিক ইস্যু নিয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে ডেপুটেশন তৃণমূল কংগ্রেসের

এক্স হ্যান্ডেলে মমতার পোস্ট নিয়ে নতুন জল্পনা

চিফ রিপোর্টার: সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি জাতীয় নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়ে এসআইআর স্থগিত করার আর্জি জানিয়েছিলেন।একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে খুশি করতে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। পরপর কাজের চাপে বিএলও-মৃত্যুর ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী সরব হওয়ার পরই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরে “এসআইআর” নিয়ে ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে। তাদের অভিযোগ; বিএলওদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি, দুই বছরের কাজ দুই মাসে করার চেষ্টা করছে কমিশন। রাজ্যে এসআইআর হবে এই ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক সাধারণ মানুষের মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসছে। রাজ্যের সরকারি দপ্তরের নিজস্ব কাজ, বাংলার একাধিক গুরুত্বপুর্ন প্রকল্পের কাজ করে “এসআইআর” এর বাড়তি কাজের চাপ বিএলও- রা নিতে পারছেন না। মৃত্যুর আগে সেই মোতাবেক চিঠিও লিখে গেছেন এক আত্মহননকারী।

 

 

 

 

 

 

 

এমতাবস্থায় এসআইআর স্থগিতের জন্য নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে আবেদন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর ২ দিনের মধ্যেই শনিবার সিইও দফতরে যায় রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সাংসদ পার্থ ভৌমিক-সহ অন্যান্যরা। সিইও-র সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের মাধ্যমে তাঁরা অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে খুশি করতেই কাজ করছে নির্বাচন কমিশন।

এই বিষয়ে তৃণমূল-এর মন্ত্রীদের কী বক্তব্য:

মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেন, ‘২ বছরের কাজ ২ মাসে করার জন্য জোর দেওয়া হচ্ছে। একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে কমিশন। প্রত্যেক বুথে ১৫০ থেকে ২০০ জন ভোটারের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এক এক জায়গায় এক এক রকম নিয়মের কথা বলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চক্রান্ত চলছে। কমিশনের ওয়েবসাইটটাই তো ভুলে ভরা। কমিশনের গাফিলতিতে বহু মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন। অনেক বয়স্ক মানুষ প্যানিক অ্যাটাক এর কারণে মারা যাচ্ছেন।’ এই প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের তথ্যে কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই বিএলও-দের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। রাজ্যজুড়ে বিএলও অ্যাপে সমস্যা রয়েছে। তথ্যে ভুল আছে, অ্যাপ ক্র্যাশ করছে, এগুলো মানা যায় না। বহু মানুষ যারা জানেন তারা বিএলও – দের ওপর ভরসা রাখতে না পেরে নিজেরাই অনলাইনে ফর্ম পূরণ করে সাবমিট করছেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ, গ্রাম – মফস্বলের মানুষের কী হবে? তাদের একাধিকবার বিভিন্ন রকম নিয়ম বলে বারবার ফর্ম ফিলআপ করানো হচ্ছে। বয়স্করা বেশি সমস্যায় পড়ছেন। তারা ২০০২ সালে কোথায় ভোট দিয়েছেন মনে করতে পারছেন না। ২০০২ সালের নথি সব জায়গায় সমান নয়। অনেক যায় এসি পরিবর্তন হয়েছে। এই সব বিষয়েসাধারন মানুষ কীভাবে জানবেন?’

তাই তৃণমূলের দাবি, বিএলও-দের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ না হওয়া পর্যন্ত ডেডলাইন স্থগিত রাখা হোক বা সময়সীমা বাড়ানো হোক।

সরব মুখ্যমন্ত্রীও

এসআইআর – এর কাজ নিয়ে জটিলতা বাড়ছে দিনের পর দিন। আর এই পাহাড়প্রমাণ চাপের কাছে হার মেনে কোনও কোনও বিএলও নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার পথে হেঁটেছেন। বহু বিএলও দিন – রাত জেগে কাজ করতে করতে অবসাদে ডুবে যাচ্ছেন, শরীরের উপর বিশাল চাপ পড়ে যাচ্ছে। রাজ্যে ধারাবাহিকভাবে এসব ঘটনার জেরে নির্বাচন কমিশনকে কড়া ভাষায় তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার রিঙ্কু তরফদার নামে এক বিএলও-র আত্মহত্যার ঘটনায় কাজের চাপের অভিযোগ উঠেছে। এমনকী, একটি সুইসাইড নোটও পাওয়া গিয়েছে। যেখানে তাঁর মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশনকে তিনি দায়ী করেছেন। এরপরই কমিশনকে নিশানা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

শনিবার এক্স হ্যান্ডল পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘আরও এক বিএলও-র মৃত্যুতে গভীরভাবে মর্মাহত। কৃষ্ণনগরে ওই মহিলা পার্শ্বশিক্ষক এদিন আত্মহত্যা করেছেন। বাড়িতে আত্মহত্যার আগে কৃষ্ণনগরের চাপড়ার ২০১ নং বুথের বিএলও, রিঙ্কু তরফদার সুইসাইড নোটে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছেন।’ এরপরই কমিশনকে নিশানা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ‘আর কত প্রাণ ঝরবে? এই এসআইআর-র জন্য আর কতজনকে মরতে হবে? এই প্রক্রিয়ার জন্য আর কত মৃতদেহ আমাদের দেখতে হবে? এটা এখন সত্যিই উদ্বেগজনক!’

Related Articles

Back to top button