কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলে তাদের অন্যতম আইনজীবী মোহিত ডি রাম (Mohit D Ram) ইস্তফা দিলে
ডেস্ক: জোর ধাক্কা খেল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। ইদানীং কালের কাজকর্মের জন্য কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলে তাদের অন্যতম আইনজীবী মোহিত ডি রাম (Mohit D Ram) ইস্তফা দিলেন। নির্বাচন কমিশনের কাউন্সেলের যে প্যানেল সুপ্রিম কোর্টে কমিশনের হয়ে মামলা লড়ে, সেই প্যানেলের অন্যতম সদস্য মোহিত ডি রাম। তাঁর বক্তব্য, কমিশনের কাজকর্মের সঙ্গে তাঁর মূল্যবোধ “মিলছে না”, তাই তিনি পদত্যাগ করছেন।
২০১৩ সাল থেকে নির্বাচন কমিশনের কাউন্সেল প্যানেলের সদস্য ছিলেন মোহিত ডি রাম। তিনি তাঁর পদত্যাগপত্রে লিখেছেন, “এখন নির্বাচন কমিশন যে ভাবে চলছে, তার সঙ্গে আমার মূল্যবোধ খাপ খাচ্ছে না। তাই সুপ্রিম কোর্টে কমিশনের প্যানেল কাউন্সেলের (Panel Counsel for SC) দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছি।”
নির্বাচন কমিশনকে প্রতিনিধিত্ব করা তাঁর কর্মজীবনে একটা ‘মনে রাখার মতো মাইলফলক’ বলে বর্ণনা করেছেন মোহিত ডি রাম।
আদালতের পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট করা থেকে মিডিয়াকে বিরত করার জন্য নির্বাচন কমিশন অতি সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে যে মামলা লড়ল, তার পরেই মোহিত ডি রাম তাঁর কাজ থেকে ইস্তফা দিলেন। দেশে কোভিড সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার জন্য মাদ্রাজ হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করে বলেছিল, গত দু’ মাসে নির্বাচনী সমাবেশ বন্ধ না করার জন্য কমিশনের বিরুদ্ধে “খুনের মামলা হওয়া উচিত”। তবে হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায়ে এই মন্তব্য ছিল না।
মাদ্রাজ হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণকে ‘মারাত্মক অপমানজনক মন্তব্য’ আখ্যা দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য ছিল, হাইকোর্টের এই মন্তব্যে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে সুপ্রিম কোর্ট বলে, মিডিয়ার পায়ে বেড়ি পরানোর প্রার্থনা না করাটা এবং অভিযোগ না করাটাই কোনো সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের পক্ষে ভালো হত।
সুপ্রিম কোর্ট বলে, “সংবিধানের ১৯ অনুচ্ছেদ শুধু ব্যক্তিবিশেষকেই বক্তব্য বলার ও মনোভাব প্রকাশ করার স্বাধীনতা দেয়নি, মিডিয়াকেও এই অধিকার দিয়েছে। মিডিয়ার কণ্ঠরোধ করা সুপ্রিম কোর্টের পক্ষে উলটো পথে হাঁটার শামিল হবে।”
সূত্র:খবরঅনলাইন


