উদার আকাশ প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হল দুটি মূল্যবান গ্রন্থ

সংবাদদাতা: মুসলমানরা বাঙালি কিনা তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। তাত্ত্বিক আলোচনাও চলে। আলোচনা একরকম আর বাস্তব পরিস্তিতি অন্যরকম। সেই সব অনুভবের কথা উঠে আসবে। মুসলমান সমাজও নানারকম ভাঙাগড়ার মধ্য দিয়ে চলে। আর এখনতো সেখানে মধ্যবিত্তদের উদ্ভব। সুতরাং নানা বিষয়ে বিতর্ক অবধারিত। সেটাই চলছে। নিত্যদিনের আশাআকাঙ্খা গুলোকে ধামাচাপা দেওয়া যায়না। সেগুলোই চর্চা হয়ে চলেছে। এবারে দুমলাটে পাঠকের সামনে হাজির করছে “উদার আকাশ” প্রকাশন। মইনুল হাসান-এর লেখা মূল্যবান গ্রন্থ “বাঙালি ও মুসলমান।”
১৯ মে প্রকাশিত হল দুটি মূল্যবান গ্রন্থ। যার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হল অনলাইনে। কৌশানি হাসান উদ্বোধন করেন “বাঙালি মুসলমান” গ্রন্থটি।
প্রথম বই ” অ্যান এথিকো-ফিলোজফিক্যাল পার্সপেক্টিভ অব টেরোরিজম” গবেষণা গ্রন্থটি লিখেছেন মহ: সেলিম রেজা।
সন্ত্রাসবাদ এবং সন্ত্রাসবাদীদের কার্যকলাপ বর্তমান বিশ্বে একটি বহুল চর্চিত বিষয়। প্রায়শই একটি প্রশ্ন আমাদের মনে জাগে যে, প্রায় একই সন্ত্রাস সৃষ্টি করে একজনকে জাতীয় নায়ক তথা স্বাধীনতা সংগ্রামী বলে আখ্যায়িত করা হয়, আবার আর একজনকে ওই একই কাজের জন্য নঞর্থক দৃষ্টিভঙ্গীতে সন্ত্রাসবাদী বলে তকমা দেওয়া হয়। এজাতীয় প্রশ্নের সঠিক উত্তর ব্যবহারিক বা প্রায়োগিক নীতিবিদ্যার নিরিখে বিশ্লেষণ করা হয়েছে আলোচ্য গ্রন্থে। ফরাসি বিপ্লবের সময় থেকে শুরু করে, পরবর্তীতে বিভিন্ন দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গী থেকে সন্ত্রাসবাদের অন্তর্নিহিত কারণগুলি এখানে সযত্নে অনুসন্ধান করা হয়েছে। যেমন- রাজনৈতিক, মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক, আর্থ সামাজিক বঞ্চনা, অর্থনৈতিক, বর্ণ-লিঙ্গ- -জাতিগত এবং সবশেষে ধর্মীয় কারণ। এককগত, গোষ্ঠীগত এবং রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের বিভিন্ন ধারা পর্যালোচনা করা হয়েছে এখানে। তাছাড়া সন্ত্রাসবাদীরা সন্ত্রাস সৃষ্টি করার জন্য কি ধরনের কৌশল অবলম্বন করে সেগুলি তুলে ধরা হয়েছে। সবশেষে, যদিও একই গোত্রে ফেলা যায় না একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী ও একজন সন্ত্রাসবাদীকে তবুও অনিচ্ছাকৃত এবং ইচ্ছাকৃত নিরীহ মানুষের হত্যা যে অনৈতিক তা প্রতীয়মান হয় এই গ্রন্থে। এবং এই প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস নির্মূল ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার উপায় হিসেবে গান্ধীজির অহিংসাকে একমাত্র বিকল্প রাজনৈতিক এবং সামাজিক পথ হিসেবে আলোচনা করা হয়েছে।
লেখক মহ: সেলিম রেজা মুর্শিদাবাদ জেলার অন্তর্গত সাগরদীঘি ব্লকের কাবিলপুর গ্রামে জন্ম। গ্রামের বালিয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হয়ে বহরমপুর শহরের কৃষ্ণনাথ কলেজ স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে জেলার অন্যতম কলেজ “শ্রীপৎ সিং কলেজ” থেকে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক এবং কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
অল্প কিছু দিন স্কুল শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে ২০০১ সালে জেলার প্রান্তিক কলেজ “নগর কলেজে” দর্শন বিভাগে অধ্যাপনার কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০১০ সালে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ড. কুমার মিত্র মহাশয়ের তত্ত্বাবধানে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
মূলত: যুক্তিবিদ্যার প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকলেও ব্যবহারিক নীতিবিদ্যার প্রায়োগিক দিকটি লেখককে বেশ নাড়া দেয়। সেই সম্পর্কিত প্রবন্ধ প্রকাশিত হয় জার্নালে।
লেখক বর্তমানে কলকাতা স্থিত শ্যামাপ্রসাদ কলেজে অধ্যাপনার কাজের সঙ্গে যুক্ত।
দ্বিতীয় বই “বাঙালি ও মুসলমান” লেখক মইনুল হাসান।
মইনুল হাসান-এর জন্ম মুর্শিদাবাদের জলঙ্গীতে। ওই গ্রামেই বেড়ে ওঠা। বিশিষ্ট সমাজকর্মী। পড়াশোনা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। গবেষণা ভোপালের আর কে ডি এফ বিশ্ববিদ্যালয়ে। লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন বহুদিন। সাহিত্য, দর্শন, ইতিহাস, ধর্মতত্ত্ব আগ্রহের বিষয়।
ইসলাম ও ইসলামতত্ব নিয়ে গবেষনায় রত। তার ইসলামি আইন নিয়ে বই বহুল চর্চিত হয়েছে পাঠক মহলে। উদার আকাশ থেকেই প্রকাশিত হয়েছে। অধ্যাপক সুকুমারী ভট্টাচার্যকে নিয়ে ত্রিভাষিক সম্মাণনাগ্রন্থ সম্পাদনা করেছেন। যা আন্তর্জাতিকস্তরে আদরনীয় হয়েছে। নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৪০টার বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে। ১৫টি সম্পাদনা করেছেন। স্ত্রী ও কন্যা নিয়ে সংসার।
সমগ্র অনুষ্টানটি পরিচালনায় ছিলেন বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পরিষদ-এর কর্ণধার উদার আকাশ প্রকাশনের প্রকাশক ও সম্পাদক ফারুক আহমেদ।



