জানা-অজানা

চিরবিদায় নিলেন বাংলা আকাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী

লিটন রাকিব

১৯৪৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। কারিগরি শিক্ষা থাকলেও কবিতার জগতেই নিজেকে মেলিয়ে দেন হাবীবুল্লাহ সিরাজী। ঢাকা ও কলকাতা দুই প্রধান শহরেই কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীর বিশেষ জনপ্রিয়তা ছিল। তাঁর প্রয়াণ সংবাদে শোকের ছায়া দুই বাংলায়। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান কলকাতার সাহিত্যিকরা। ভারাক্রান্ত হৃদয়ে স্মৃতি রোমন্থনে বারবার উঠে আসছে এপার বাংলার সাহিত্য মহলে।৩৩টি কাব্যগ্রন্থ, ১০টি ছড়ার সংকলন সহ তিনি লিখেছেন দুটি উপন্যাস ও অসংখ্য প্রবন্ধ। তাঁর কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম দাও বৃক্ষ দাও দিন, মোমশিল্পের ক্ষয়ক্ষতি, হাওয়া কলে জোড়াগাড়ি, নোনা জলে বুনো সংসার। জনপ্রিয় উপন্যাসগুলির মধ্যে রয়েছে- কৃষ্ণপক্ষে অগ্নিকাণ্ড, পরাজয়। আমার কুমার , দ্বিতীয় পাঠ, মিশ্রমিল, গদ্যের গন্ধগোকুল। শিশুসাহিত্যের মধ্যে ইল্লিবিল্লি, নাইপাই, রাজা হটপট, ফুঁ, মেঘভ্রমণ, ছয় লাইনের ভূত ও ছড়াপদ্য।

কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় আমার একটি বই উদ্বোধনে সূদুর ঢাকা থেকে উড়ে এসেছিলেন বিশিষ্ট এই কবি। এত বড় মানুষ হওয়া সত্বেও কোন অহংকার তাকে ছুঁতে পারেনি আজীবন। অতিসাধারণ ছিল তার জীবন যাপন। তিনি আমাদের সাথে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চা পান করেছিলেন, গল্প করেছিলেন অনেক অনেক, নিজের ব্যক্তিগত কতকথা শেয়ারও করে ছিলেন।অনেক ব্যস্ততার মধ্যে আমাদের সাথে অনেকক্ষণ সময় কাটিয়েছিলেন।সরকারি আমন্ত্রণ জানিয়েছিলে আমাদের কিন্তু সেই আমন্ত্রনে সাড়া দিয়ে আমাদের আর যাওয়া হয়ে ওঠে নি। সেই না যাওয়ার যন্ত্রণা কুরে কুরে খাচ্ছে। যাইহোক সে সময়ে আমাদের সঙ্গে ছিলেন বিশিষ্ট কবি সুব্রত রুদ্র, কবি রফিক উল ইসলাম,কবি সুধীর দও, কবি আরফিনা, সাংবাদিক হাসিবুর রহমান প্রমুখেরা।

কবি ১৯৯১ সালে বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার, ২০০৭ সালে বিষ্ণু দে পুরস্কার, ২০১০ সালে রূপসীবাংলা পুরস্কার, ২০১৬ সালে একুশে পদকসহ দেশি-বিদেশি নানা পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।কবি যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন, চির বিশ্রামে থাকুন;শান্তিতে থাকুন!

Related Articles

Back to top button