বিপ্লবী কানাইলাল ভট্টাচার্যের ৯১ তম আত্মাহুতি দিবস অন্যভাবে পালনের উদ্যোগ জয়নগরে
উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়,জয়নগর : ইতিহাসের পাতায় এখনো জায়গা করে রেখেছে জয়নগর মজিলপুর, বহড়ু তৎসংলগ্ন এলাকা।বহু মনিষী, বিপ্লবীর জন্ম স্থান ছিল এই এলাকায়।দেশের জন্য নিজের প্রাণ বলিদান দেওয়া এরকমই এক বিপ্লবী কানাইলাল ভট্টাচার্যের ৯১ তমআত্মাহুতি দিবস ২৭ শে মঙ্গলবা।ইতিহাসের পাতা থেকে জানা যায়, ১৯৩১ সালের ২৭শে জুলাই তারিখে কানাইলাল ভট্টাচার্য ‘বিমল দাস গুপ্ত’ ছদ্মনামে বিপ্লবী দীনেশ গুপ্ত ও বিপ্লবী রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের ফাঁসির দণ্ডাদেশকারী বিচারক আর আর গার্লিককে হত্যা করেন এবং পটাশিয়াম সাইনাইড এর ক্যাপসুল খেয়ে নেন |
সেই অবস্থায় উপস্থিত প্রহরী সার্জেন্টের গুলি তাঁর শরীর ঝাঁজরা করে দেয় |সে সময় তাঁর পকেটে একখণ্ড কাগজ পাওয়া যায়। তাতে লেখা ছিলো “ধ্বংস হও; দীনেশ গুপ্তকে ফাঁসি দেওয়ার পুরস্কার লও”। মেদিনীপুরের ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট পেডির হত্যার ব্যাপারে পুলিসবিপ্লবী বিমল দাশগুপ্তকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল। তিনি ছদ্মনাম নিয়ে নিজ জীবনের বিনিময়ে বিমল দাশগুপ্তকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। পুলিস দীর্ঘ দিন তার প্রকৃত পরিচয় উদ্ধার করতে পারেনি | এমনকি শনাক্তকরণের সময় কানাইলালের মহীয়সী মাতাও তার দেহকে অস্বীকার করে বলেন “এ তার কানু নয়”। মাত্র ২২ বছর বয়সে নামহীন, পরিচয়হীন শহীদ হয়ে থেকে, অপর এক বিপ্লবীকে বাঁচিয়ে যাওয়ার এই চেষ্টা ইতিহাসে বিরল। ১৯৯০ সালের ২২ শে আগস্ট কানাইলাল ভট্টাচার্যের জন্ম হয় দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার জয়নগর থানার মজিলপুরের দেওয়ান বংশে। তার পিতার নাম নগেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য ও মাতা কাত্যায়নী দেবী।তিনি জয়নগর মজিলপুর, বহরু ,বিষ্ণুপুর ব্যায়াম সমিতির সভ্য ছিলেন।ছাএাবস্থায় আয়ারল্যান্ডের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস, বাঘাযতীনের বুড়ীবালামের যুদ্ধ, মাষ্টার দার জালালাবাদ পাহাড়ে বিপ্লবীর কর্মকাণ্ডে আকৃষ্ট হন। তিনি যুবক বয়সেই স্বাধীনতা বিপ্লব আন্দোলনে যোগ দেন।তিনি সুভাষ চন্দ্র বসু প্রতিষ্ঠিত বেঙ্গল ভলেন্টিয়ার্স দলের সদস্য ছিলেন | তিনি বহড়ুর বিপ্লবী সুনীল চ্যাটার্জি, বোড়ালের সাতকাড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো সুপরিচিত বিপ্লবীদের সংস্পর্শে আসেন এবং একজন বিপ্লবী আন্দোলনের যোদ্ধায় পরিণত হন।
তিনি মজিলপুর জে.এম ট্রেনিং স্কুলের ছাত্র ছিলেন।আলিপুর জেলা সদরের ঠিকানা এখনো বিপ্লবী কানাইলাল ভট্টাচার্যের নামে উল্লেখিত।বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে ১৩ -১৪ বছর আগে এই দিনটিকে পালন করা হতো।বর্তমানে সরকারি উদ্যোগে দিনটি পালন না করা হলেও বেসরকারি উদ্যোগে গঠিত বিপ্লবী কানাইলাল ভট্টাচার্য স্মৃতি রক্ষা কমিটি এই দিনটি পালন করে মজিলপুর দও বাজারে বিপ্লবীর বাড়ির পাশে তাঁর আবক্ষ মূর্তির সামনে।বর্তমান কোভিড পরিস্থিতিতে গত বছরের মতন এবছর ও সে ভাবে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই দিনটি পালন করতে পারছে না স্মৃতি রক্ষা কমিটি।
তবে এ বারে জয়নগর মজিলপুর পৌরসভা ও জয়নগর থানার প্রত্যয়ের উদ্যোগে জয়নগর মজিলপুর পৌরসভার সব ওয়ার্ডে মঙ্গলবার টোটোয় করে মাইকিং এর মধ্যে দিয়ে এই মহান বিপ্লবীর জীবনী তুলে ধরা হবে বলে জানালেন পৌর প্রশাসক সুজিত সরখেল ও জয়নগর থানার আই সি অতনু সাঁতরা।তাছাড়া ওই দিন সন্ধ্যায় হেরিটেজ কমিটি ফর গ্রেটার জয়নগর সহ বেশ কয়েকটি টি সংস্থার পক্ষ থেকে অনলাইনের মাধ্যমে এই দিনটি পালন করা হবে।এছাড়া ঐ দিন এলাকার মানুষ দের কাছে আবেদন করা হয়েছে যে তাঁরা যেন ২৭ তারিখ মঙ্গলবার সবাই তাদের ফেসবুক সহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপ্লবী কানাইলাল ভট্টাচার্যের ছবি পোস্ট করে মজিলপুর-জয়নগরের এই বীর সন্তানের প্রতি সম্মিলিতভাবে বিশেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।-+—-



