রাজ্য
নিরাপত্তা বাহিনীর সরকারি অস্ত্র পুজো দিয়ে বিতর্কে বিজেপির সাংসদ জগন্নাথ সরকার

রানাঘাট, 18 অক্টোবর : দুর্গাপুজোয় রীতি মেনে অস্ত্র-পুজো করতে গিয়ে বিতর্কে নদিয়ার রানাঘাটের সাংসদ বিজেপির জগন্নাথ সরকার ৷ অভিযোগ, তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে থাকা সরকারি অস্ত্রও পুজো দিয়েছেন ৷ আইনত সেটা কি করা যায়, আপাতত সেই প্রশ্নই তুলছে তৃণমূল কংগ্রেস ৷
অন্যদিকে জেলার তৃণমূল নেতা তথা নবদ্বীপ পৌরসভার প্রশাসক বিমানকৃষ্ণ সাহা এই ঘটনার নিন্দা করতে গিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদাহরণ টেনে এনেছেন ৷ তিনি বলেন, ‘‘অস্ত্র পুজো করে কখনওই মানুষ শান্তিতে থাকতে পারেন না । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অস্ত্র ছাড়াই দেখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে মানুষের মন জয় করতে হয় ।’’
যদিও এই নিয়ে কোনও বিতর্ক হতে পারে না বলে দাবি করেছেন জগন্নাথ সরকার ৷ তাঁর দাবি, রাজ্যের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা হিন্দু শাস্ত্র ভুলে গিয়েছেন । হিন্দু শাস্ত্রে লেখা রয়েছে অস্ত্র পুজো করা হয় । এরপর রাজ্যের শাসক দলের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘‘তৃণমূলকে বলব হিন্দু-সম্প্রদায়ের সব থেকে বিক্রি বেশি হয় পঞ্জিকা ৷ সেখানে স্পষ্ট লেখা রয়েছে অস্ত্র পুজোর কথা । অস্ত্র পুজোর দিন আমি সামরিক বাহিনীর অস্ত্র ব্যবহার করেছি । সেটা পুরোটাই বৈধ ৷ কারণ, ওই অস্ত্র যথেষ্ট নিরাপত্তার মধ্যেই ছিল ।’’
কিন্তু এই পুজোর সঙ্গে শান্তিপুর বিধানসভা আসনের আসন্ন উপনির্বাচনের যোগসূত্র খুঁজে পাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস ৷ দলের নদিয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি জয়ন্ত সাহা বলেন, ‘‘অবিলম্বে সাংসদ জগন্নাথ সরকারকে গ্রেফতার করা হোক । তার কারণ উপনির্বাচনের আগে সামরিক বাহিনীর অস্ত্র ব্যবহার করে মানুষকে আতঙ্কিত করে তোলার চেষ্টা করেছেন বিজেপি সাংসদ । আমরা তীব্র নিন্দা জানাই ৷ ভোটের আগে কিছুতেই যেন মানুষকে প্রভাবিত না করতে পারে বিজেপি, সেই কারণেই নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি সাংসদের বিরুদ্ধে ।’’
যদিও এই নিয়ে চিন্তিত নন জগন্নাথ সরকার ৷ তিনি বঙ্গের শাসক দলের উদ্দেশে পালটা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘‘তৃণমূল চাইলে আমার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিক ।’’



