কংগ্রেসকে ইশতেহার পাঠ মুখ্যমন্ত্রী
গুয়াহাটি: কয় মাস পর এই নির্বাচন তার আগেই দুই সপ্তাহের জন্য প্রচারের ময়দান থেকে উধাও ছিলেন খোদ মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং(N Biren Singh)-ই। শনিবার ফের তিনি নামলেন প্রচারে, প্রথমেই তাঁর আক্রমণের নিশানা হল বিরোধী দল কংগ্রেস(Congress)-ই। তিন সপ্তাহ বাদেই মণিপুরে বিধানসভা নির্বাচন (Manipur Assembly Election 2022) রয়েছে। ইতিমধ্যেই মনোনয়ন পত্রও জমা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার প্রচারে নেমে তিনি বলেন, “নির্বাচনী প্রচারে কংগ্রেসের তরফে যা কিছু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা সবই মিথ্যা প্রচার। ক্ষমতায় ফিরে আসবে বিজেপিই।”
বিজপির অন্দরে এই কোন্দলকেই হাতিয়ার করেছে কংগ্রেস। তাদের দাবি, সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। মণিপুরে কংগ্রেসের ইন চার্জ ভক্তি চরণ দাস বলেন. “ওনারা (বিজেপি) ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। ১২ জন বিধায়ককে বরখাস্ত করার পরও জোর করে সরকারের গদি দখল দখল করে রেখেছে বিগত ৫ বছর ধরে।”
ঠিক এরপরই এক সপ্তাহের জন্য উধাও হয়ে যান ৬১ বছরের মুখ্যমন্ত্রী। দলীয় সূত্রে খবর, প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরই কমপক্ষে ১৬ জন দল ছাড়তে চেয়েছিলেন। গত সপ্তাহেই মুখ্যমন্ত্রী যে সমস্ত প্রার্থীরা টিকিট পাননি, তাদের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনায় বসেন এবং তাদের বুঝিয়ে সমঝোতা করেন।
কংগ্রেসকে আক্রমণ করলেও, দলের অন্দরেই বিরোধ থামাতে হাসফাঁস করছেন মণিপুরের মুখ্য়মন্ত্রী। গত সপ্তাহেই বিজেপির তরফে মণিপুরের ৬০টি কেন্দ্রের জন্য়ই প্রার্থী তালিকা পেশ করা হয়। অনেক নেতা, মন্ত্রী-বিধায়কই টিকিট না পাওয়ায় বিক্ষোভ শুরু করেন। ভাঙচুর, টায়ার জ্বালিয়ে দলের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দেন বিজেপি কর্মীরা। তিন বিধায়ক সহ একাধিক কর্মী দল বদলে কংগ্রেস ও অন্যান্য ছোট রাজনৈতিক দলে যোগদান করেন।
খুদাই কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার পরই নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং। অন্যদিকে, বিজেপিকে হারিয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসার জন্য শুক্রবারই কংগ্রেসের তরফে নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের উল্লেখ্যযোগ্য প্রতিশ্রুতিগুলি হল প্রতিবছর ৫০ হাজৈর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং সমস্ত সরকরি চাকরিতে মহিলাদের জন্য এক তৃতীয়াংশ সংরক্ষণ। একইসঙ্গে কংগ্রেসের তরফে বির্তকিত আফস্পা আইন প্রত্যাহার ও সেনাবাহিনীতে আলাদা মণিপুর রেজিমেন্ট তৈরির প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
কংগ্রেসের এই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিকেই কটাক্ষ করে এদিন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ইস্তেহার বাস্তবসম্মত হওয়া উচিত। কিন্তু ওনাদের ইস্তেহার কেবলই প্রচার সর্বস্ব। আমাদের নির্বাচনী ইস্তেহার বাস্তবোচিত এবং সহজেই তা প্রয়োগও করা যাবে। ওনাদের মতো আমরা মিথ্যাচার করছি না।”


