রাজ্য

রাজ্যপালের ঘোষণা পুরভোটের দিনে রাজ্য বিধানসভায় অধীনে স্থগিত

কলকাতা: প্রায় সময় তার সঙ্গে রাজ্য সরকারের ‘সংঘাতের সম্পর্ক’। বিভিন্ন সময়েই টুইটে ঝড় তোলেন তিনি। এ বার পুরভোটের দিনেই ফের বিতর্কের শিরোনামে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। টুইট করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘সংবিধানের ১৭৪ নম্বর ধারার উপধারা ২-এর অধীনে ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে স্থগিত থাকছে অধিবেশন।’ রাজ্যপালের ঘোষণা ঘিরে কার্যত জল্পনা শুরু হয়েছে। মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহেই  বঙ্গ বাজেট অধিবেশনের সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে রাজ্যপালের এমন নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়ে কার্যত বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও ধনখড় স্পষ্ট জানিয়েছেন,  রাজ্যের মন্ত্রিসভার সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজ্যপাল এভাবে টুইট করে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করতে পারেন না।

এখানেই শেষ নয়, রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য নিয়োগ থেকে শুরু করে ভোট পরবর্তী হিংসা কিংবা পুরভোট আবহে হাওড়া পুরবিল বিতর্ক, একের পর এক বিতর্কে রাজ্যের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। ফের এই ঘটনায় নতুন করে রাজভবন-নবান্ন সংঘাত বাড়ল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বস্তুত, রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত নতুন কোনও ঘটনা নয়। সম্প্রতি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপালকে ‘ঘোড়ার পাল’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। এমনকী টুইটারেও তাঁকে ‘বাধ্য’ হয়ে ব্লক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। গত ২৬ জানুয়ারি বিধানসভা চত্বরে দাঁড়িয়ে অধ্যক্ষকে বেনজির আক্রমণ করেছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। তার পরেই কড়া পদক্ষেপ করে রাজ্য। রাজ্যপাল স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিধানসভায় আসতে চাইলে কারণ জানতে চাওয়া হবে বলে জানিয়ে দেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্য়ায়।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বাজেট পেশ হতে পারে আগামী মার্চ মাসে। সূত্র মারফত এমনটাই জানা গিয়েছে। গত কয়েক বছরে কেন্দ্রীয় বাজেটে্র আগে কিংবা পরে হয়ে যেত রাজ্য সরকারের বাজেট অধিবেশন। গত ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। তার পর প্রায় ছয় দিন কেটে গেলেও এখনও জানানো হয়নি রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশন কবে হবে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যপালের এই সিদ্ধান্ত যে কার্যত নজিরবিহীন এমনটাই মনে করা হচ্ছে।

রাজ্যপালের এ হেন সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা কী বলছেন? তাঁদের দাবি, বাংলায় ইতিপূর্বে নির্দেশিকা জারি করে এভাবে বিধানসভার অধিবেশন স্থগিত রাখার ঘটনা আগে ঘটেনি। রাজ্য সরকার যখন স্পষ্ট করে এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি, তখন স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যপালের এই টুইট কাম্য নয়। রাজ্যপালের অনুমোদন যেমন জরুরি, তেমনি বিধানসভার অধিবেশনের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের আহ্বান ও সিদ্ধান্ত জরুরি। সেখানে  আচমকা রাজ্যপালের এ হেন বিজ্ঞপ্তি সংঘাতেরই জন্ম দেবে নতুন করে এমনটাই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

প্রায় অনুরূপ সুর তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষের কথায়। তাঁর মন্তব্য, “রাজ্যপালের স্বভাব হয়ে গিয়েছে টুইট করা। কিছু হলেই টুইট করতে শুরু করেন। ওঁকে বলব, আপনি সবুজ মনের মানুষ। সেরকমই থাকুন। কখনও গোপন প্রেমে পড়লে আবার টুইট করে ফেলবেন না! সম্পূর্ণ এক্তিয়ারভুক্ত একটি কাজ করেছেন রাজ্যপাল। আমাদের পরিষদীয় মন্ত্রীর সঙ্গে কি আলোচনা হয়েছে  এ বিষয়ে?”

ঠিক কী টুইট করেছেন রাজ্যপাল? টুইটে ধনখড় স্পষ্ট লিখেছেন, ‘সাংবিধানিক ক্ষমতা অনুযায়ী ১৭৪ ধারা ২ নম্বর উপধারা বলে আমি রাজ্য বিধানসভার অধিবেশন স্থগিত করছি।’ সঙ্গে রাজ্যপালের সই করা একটি বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়েছে।

Related Articles

Back to top button