ব্যথার ওষুধ খাচ্ছেন সাবধান! হারাতে পারেন শ্রবণশক্তি
যে কোনো ওষুধ কিন্তু অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। কারণ এখান থেকেই আসতে পারে একাধিক সমস্যা। ব্যতার ওষুধ অন্ত্রে ঘা তৈরি করতে পারে, হজমে সমস্যা করে একথা সবাই জানেন। কিন্তু অপ্রোজনে নিয়মিত ভাবে ব্যথার ওষুধ খেলে আপনার শ্রবণশক্তিও হারিয়ে যেতে পারে! সম্প্রতি একটি সমীক্ষাতে সেই রকমই ইঙ্গিত রয়েছে। আর তাতেই বলা হয়েছে, বছর ৪৫-এর এই ব্যক্তি শারীরিক সমস্যার জন্য ২০১৬ থেকে নিয়মিত ব্যথার ওষুধ খেতেন। ২০২০ সাল থেকে তাঁর শুনতে সমস্যা হচ্ছিল। বর্তমানে তিনি শ্রবণশক্তি একেবারেই হারিয়ে ফেলেছেন। কানে শুনতে না পাওয়াটাও কিন্তু আমাদের সামনে কঠিন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। কর্মক্ষেত্র থেকে পারিবারিক জীবন সর্বত্রই নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়।
ব্যাথার ওষুধ থেকে এই যে শ্রবণশক্তি হ্রাসের সমস্যা হয় চিকিৎসা পরিভাষায় তা ওটোটক্সিসিটি নামে পরিচিত। এমন কিছু অ্যান্টিবায়োটিক আছে যা দীর্ঘদিন ধরে খেলে এবং কেমোথেরাপির পর কিন্তু এই সমস্যা বেশি হয়। ব্যাথার ওষুধে এমন কিছু উপাদান থাকে, যা কানের আভ্যন্তরীন সমস্যার সৃষ্টি করে। আইবুপ্রোফেন কক্লিয়াতে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দেয়, যে কারণে কোশের মৃত্যু হয়। যে কারণে ওষুধ খাওয়ার আগে সচেতন হতে হবে। সামান্য মাথা ব্যথা, পিঠ ব্যথাতে সঙ্গে সঙ্গেই ব্যথার ওষুধ খাওয়া কিন্তু ঠিক নয়। ওষুধ গুরুত্বের সঙ্গে ব্যবহার করুন। ডায়ালিসিস, ক্যানসার আক্রান্ত বা উচ্চ শব্দে কানের সমস্যা হয় এমন মানুষদের ক্ষেত্রে আগে থেকেই প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা নেওয়া খুবই প্রয়োজন।
কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জারি এমন রোগীদের জন্য কার্যকর যারা জন্মগতভাবে বধির এবং কোনও সংক্রমণজনিত কারণে শ্রবণ শক্তি হারিয়েছেন। বাকিদের ক্ষেত্রে কিন্তু তা ততটাও প্রযোজ্য নয়। যে কারণে ব্যথার ওষুধ নিয়মিত খেলে আসতে পারে একাধিক সমস্যা। আর তাই আগে থেকেই এ বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। ওষুধের প্রভাবে শ্রবণশক্তি হারালে সব সময় অস্ত্রোপচারের পরও সঠিক কাজ হয় না বলেই মত চিকিৎসকদের।



