পূর্ব বর্ধমানের বড়বেলুন গ্রামে স্বপ্নাদেশ দিয়ে জাগ্রত বড়মা ১৪ হাত কালীমূর্তি রূপে পূজিত

স্বপন দত্ত বাউল, নিউজ সারাদিন ——- দশম মহাবিদ্যার আর এক রূপ কালী । প্রতি বছর ভুত চতুরদশি, কালী পূজো অমাবস্যায় দেবী কালী মা পূজিত হন ধরাধামে নানা রূপে নানা সাজে। এই শুভক্ষণ টিতে দীপাবলি উৎসব রূপে পালিত হয়। এবার বড় বেলুনের বড় মার কথায় আসি , পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থেকে নাসিগ্রাম বাস রুটে বড় বেলুন গ্রাম বর্ধমান থেকে বাসে একঘন্টা ও ট্রেনে ভাতার স্টেশন থেকে টোটো করে ১৫ মিনিটের পথ গেলেই বড়মার কাছে পৌঁছে যাওয়া যায়।। লোক কথিত আছে বড় বেলুন গ্রামে ভট্টাচার্য্য পরিবারের পুরোহিত সদস্য কালী মায়ের সেবক , ছোট্ট কালী মূর্তি তৈরি করে শশানে তাল পাতার ছাউনি করে মায়ের পুজো শুরু করেন দীর্ঘ বহু বছর আগে। কালী পুজোর দিন ঠিক সন্ধায় ওই ভট্টাচার্য পুরোহিত মায়ের ঘটে জল ভরে আনতে গেলেন বড় দীঘি থেকে রেখে গেলেন শশাণে তাল পাতার ছোট্ট ছাউনি তে তার নিজের তৈরি মাটির ছোট্ট কালী মূর্তি মাকে। শশাণ থেকে পাঁচ মিনিটের হাঁটা পথ বড়দীঘি বিশাল পুকুর থেকে ঘটে জলভরে শশাণে পৌঁছেই ভট্টাচার্য ব্রাম্ভন অবাক হয়ে দেখলেন সেই ছোট্ট তালপাতার ছাউনি ভেঙ্গে ১৪ হাত উঁচু তার তৈরি কালী মূর্তি । শশাণে জনপ্রানি নেই তবু ভয় না খেয়ে মাকে ভট্টাচার্য্য ব্রাম্ভন প্রশ্ন করলেন মাকে মা এখুনো তোর চক্ষু দান করি নাই । ভেবে ছিলাম তোর জাগ্রত ঘটে জল ভরে এনে নিজে হাতেই চক্ষু দান করব । কিন্তূ মা তোর একি ভয়ংকর বিশাল রূপ আমার ভয় লাগছে তুই কি আমার উপর কোনো কারণে রুষ্ট । আমি গরীব ব্রাম্ভন মানুষ তোর কি দিয়ে পুজো করব। আর আমি যখন থাকব না কে তোর সেবা করে পুজো করবে আমি যে বড়ই দিশেহারা মা পথ দেখা মা পথ দেখা মা বলে অচৈতন্য হয়ে পড়েন মায়ের চরণে ।
তখন বিশাল কালী মূর্তি মা স্বপ্নাদেশ দেন বলেন শোন ভট্টাচার্য আমি ১৪ হাতের কালী এখানে বড় মা বলে তোর হাতে প্রতিষ্টিত হতে চাই, পূজা পেতে চাই।এই গ্রামেরই একটি ব্রাম্ভন কন্যা সদ্য বিধবা হয়েছে ঐ দেখ শশাণে দাহ করতে নিয়ে আসছে। তুই ঐ মৃত কন্যা কে দাহ করতে দিবি না আমার চরনের ধুলা ও আশীর্বাদর ফুল ওর মাথায় ছুঁয়ে দিয়ে পরে ঐ ফুল ওকে খাইয়ে দিবি ঐ মৃতা কন্যা আবার বেঁচে উঠবে তুই ওকে বিবাহ করবি তোর সংসার হবে বংশ রক্ষা হবে, তোর সন্তান রাই বংশানুক্রমে আমার পুজো করবে । হটাৎ ভট্টাচার্যের জ্ঞান ফিরে আসে দেখে তার সামনে মায়ের আশীর্বাদ এর ফুল ও মায়ের চরণের ছাপ রয়েছে ধুলোতে। ঐ সদ্য অল্প বয়সী বিধবা কে দাহ করতে এলে গ্রাম বাসি সকলেই মায়ের ১৪ হাতের অপরূপ মূর্তি দেখে অবাক। তখন ভট্টাচার্য ব্রম্ভন গ্রামবাসী কে সব কথা বলে এবং মায়ের নির্দেশ এর কথাও বলে। গ্রামবাসীরা মায়ের রূপ এবং অলৌকিক ঘটনা দেখে মায়ের মহিমায় বিভোর হয়ে ভট্টাচার্য ব্রাম্ভন কে বলে বামুন ঠাকুর তুমি মায়ের দয়া ও দেখা দুটোই পেয়েছো গো। তুমি এই মৃত বিধবা কে বাঁচিয়ে তাকে বিবাহ করো তোমার বংশ রক্ষা করো। ভট্টাচার্য বলেন কিন্তূ ঐ মেয়েটির থেকে আমার বয়স যে অনেক বেশি , গ্রাম বাসি বলে তা হলেও মায়ের নির্দেশ তো তোমাকে মানতেই হবে। মায়ের কথা মত ঐ মৃতা বিধবার মাথায় মায়ের চরণের ধুলো ও মায়ের আশীর্বাদ এর জবা ফুল স্পর্শ করতেই মেয়েটি যেন ঘুম থেকে জেগে উঠলো। তখন ভট্টাচার্য্য পুরোহিত ঐ মেয়েটিকে মায়ের চরণের জবা ফুল টি খাইয়ে দিতেই মেয়েটি যেন স্বাভাবিক হয়ে আবার প্রাণ ফিরে পেলো। তখন ভট্টাচার্য্য পুরোহিত মায়ের চক্ষু দান করে লেন মায়ের চোখ আঁকলেন তখনই ঐ রাতেই মায়ের সামনেই ঐ মেয়েটিকে বিবাহ করলেন মাকে সাক্ষী রেখে তারপর মায়ের পুজো সারলেন।
সকালে সকল গ্রাম বাসি এই অলৌকিক ঘটনা দেখে দেখে অবাক হয়ে দেবী কে গ্রামের জাগ্রত দেবী রূপে বরণ করে মহা আনন্দে ধুমধাম করে শশাণ কালী পুজো বড়মা কালীর পুজো সম্পন্ন করেন। সেই থেকেই দীর্ঘ কয়েক পুরুষ ধরে বড় বেলুনে বড় মা ১৪ হাত কালী হয়ে পূজিত হয়ে আসছেন। বিরাট কুলো কেটে মায়ের জীভ তৈরি করা হয়। বর্তমানে বেশ কয়েক বছর হলো মায়ের বিশাল মন্দিরেই মা মহা সমারহে পূজিত হয়ে আসছেন। হাজার হাজার, লাখো লাখো ভক্ত বৃন্দের সমাগম হয় । মূলত লোকে বলে এই বড় মায়ের পুজোতে গ্রামের মানুষজন মদ আর মাংস খুব খায় তাই অনেকে বলে মদ আর মংসর পূজো । যারা মানসিক করেন তাদের মন বাঞ্চা পূরণ হয় প্রচুর মানসিকের পাঁঠা ছাগল বলি হয় মায়ের নামে বলী বড় মায়ের তলায় পাঁঠা ছাগল বলী দেওয়ায় জন্য মানুষের ভিড় লাইন পড়ে যায়। এই কালীপুজো উপলক্ষে ঘরে ঘরে মানুষ মদ্য পান করে মাতাল হয়ে চুড় হয়ে থাকেন বড় মা বড় মা বলে চিৎকার করেন অর্থাৎ এক কথায় মাতালের ছড়াছড়ি তবে বর্তমানে আধুনিক যুগে কিছুটা তো পরিবর্তন হয়েছে শিক্ষিত সমাজে, একেবারে সত্য ঘটনা।
ঐ গ্রামে মায়ের মেয়ে ৭ হাতের কালী আছে এবং অনেক কালী পুজো হয় গ্রামে কিন্তূ ভাই দ্বিতীয়ার দিন সন্ধে বেলায় সাড়ম্বরে বিভিন্ন বাজনা বাজিয়ে বাজি ফটকা তুবরি বাজি ফাটিয়ে বড় দীঘির বড় পুকুর আলোয় আলোকিত করে বড় মা ১৪ হাত কালী সবার আগে বিসর্জন হবে, তারপর অন্য সব পূজিত কালী মা একে একে বিসর্জন করা হয়। লোক কথিত আছে এই বড় মায়ের কাছে মন প্রাণ ভরে যদি ডাকা যায় তা হলে বড় মায়ের আশির্বদে সত্যিকারের বিশ্বাসী ভক্তবৃন্দ দের মনের ইচছা পূর্ন হয় । সারা বিশ্ব মাঝারে বাংলার পূর্ব বর্ধমানের বড় বেলুনের বড়মা কালি জাগ্রত দেবী রূপে সমাদৃত হয়ে আজও বিরাজ করে ভক্ত বৃন্দ দের মনের ইচছা পূরণ করে ইচ্ছাময়ী দেবী রূপে অধিষ্ঠান করছেন বড় বেলুন গ্রামের অধিষ্ঠাত্রী দেবী রূপে।।



