পুজো দিতে গিয়ে ট্রাকের চাকায় পিষে গেলেন মহিলা বিয়ের ৩ দিন আগে , কমপক্ষে মৃত ১২

নিজস্ব সংবাদদাতা : ধর্মীয় আচার পালনের জন্য পিপুল গাছের সামনে জড়ো হয়েছিলেন সকলে। হঠাৎ পিছন থেকে হর্নের আওয়াজ, ঘুরতেই চোখ ধাঁধিয়ে গেল জোরাল আলোয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দ্রুতগতিতে ধেয়ে আসা ট্রাক পিষে দিল ১২ জনকে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের বৈশালীতে। একটি পদযাত্রা চলাকালীনই আচমকা পুণ্যার্থীদের ধাক্কা মারে ট্রাক। চাকার নীচে পিষে মারা যান কমপক্ষে ১২ জন। মৃতদের মধ্যে মহিলা ও শিশুও রয়েছে। ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার । শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু । নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা ও আহতদের ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের তরফে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার বিকেলে উত্তর বিহারের বৈশালী জেলায় একটি ধর্মীয় পদযাত্রা বের হয়। রাত ৯টা নাগাদ পুণ্যার্থীরা একটি পিপুল গাছের সামনে জড়ো হন স্থানীয় দেবতা ভূমিয়া বাবার আরাধনায়। সবে পুজো শুরু হয়েছিল, এমন সময়ই দ্রুতগতিতে ধেয়ে আসে একটি ট্রাক। চোখের নিমেষে পিষে দেয় উপস্থিত পুণ্যার্থীদের। দুর্ঘটনায় শিশু ও মহিলা সহ কমপক্ষে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। আহতদের হাজিপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই শোক প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নিহতদের পরিবারের জন্য ২ লক্ষ টাকা করে এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের তরফে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও “অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক” বলে উল্লেখ করেছেন এই দুর্ঘটনাকে। মুখ্য়মন্ত্রী নীতীশ কুমারও দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মৃতদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে আহতদের যাতে চিকিৎসায় কোনও গাফিলতি না হয়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসনকে।
দুর্ঘটনার অনেকক্ষণ পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছনোয় নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা পথ আটকে বিক্ষোভ দেখান। পরে তাদের বুঝিয়ে দুর্ঘটনাস্থল থেকে দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বৈশালীর পুলিশ সুপার মণীশ কুমার জানিয়েছেন, বিয়ের অনুষ্ঠান সংক্রান্ত পদযাত্রা ছিল এটি। দিন কয়েক বাদেই বিয়ে ছিল সুলতানপুর গ্রামের একটি পরিবারে। সেই পরিবারের সদস্যরাই রবিবার রাত ৯টা নাগাদ পদযাত্রা করে পুজো দিতে যান। একটি পিপুল গাছের নীচে তারা যখন পুজো দিচ্ছিলেন, সেই সময়ই লাগোয়া মাহনার-হাজিপুর হাইওয়ে দিয়ে ঘাতক ট্রাকটি আসছিল। দ্রুত গতিতে আসায় চালক আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং পুণ্যার্থীদের পিষে দেয়। গাছে ধাক্কা লাগায় ট্রাকটিও দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ট্রাকের ভিতরেই আটকে যায় চালকের দেহ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মৃতদের মধ্যে কমপক্ষে ৪ জন শিশু রয়েছে।


