জানা-অজানা

ঘর থেকে ভেসে এসেছিল আর্তনাদ, ঢুকতেই দেখা গেল মাটিতে লেগে চামড়া, মহিলার মুখ গলে বেরিয়ে আসছে হাড়…

নিজস্ব সংবাদদাতা: ঘর থেকে হঠাৎ ভেসে এসেছিল মহিলার আর্তচিৎকার। তারপরই দৌড়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায় স্বামীকে। গোটা ঘটনাটিতে নজর পড়তেই প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। ঘরে ঢুকেই দেখলেন মেঝেতে পড়ে কাতরাচ্ছেন মহিলা। মুখের চামড়া গলে হাড় বেরিয়ে এসেছে। প্রায়দিনই ঝগড়া লেগে থাকত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে। কিন্তু সেই বচসার জেরে যে এমন চরম পরিণতি হতে পারে, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেনি কেউ।

আগের দিন রাতে হওয়া বচসার প্রতিশোধ নিতেই ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটাল স্বামী। স্ত্রী যখন মুখ ধুচ্ছিলেন, সেই সময়ই স্টিলের জগে রাখা অ্যাসিড ছুঁড়ে মুখ পুড়িয়ে দিলেন স্বামী। অমানবিক এই ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়খণ্ডের রাঁচীতে। ওই মহিলাকে গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অ্যাসিড হামলার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত স্বামী।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ডের রাঁচী জেলার নামকুমের বাসিন্দা ওই দম্পতি। কয়েক বছর আগেই তাদের বিয়ে হয়। বাকিদের মতো তাদের মধ্য়েও প্রায়সময়ই দাম্পত্য কলহ লেগে থাকত। রাগে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন স্ত্রী।  রবিবার আচমকাই স্ত্রীর উপর অ্যাসিড ছু়ঁড়ে মারেন অভিযুক্ত স্বামী।

জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের নাম আমির। রবিবার সকালে স্ত্রী হিনা যখন মুখ ধুচ্ছিলেন। সেই সময় তিনি ঘরেই রাখা স্টিলের মগ ছুঁড়ে মারেন। ওই পাত্রের মধ্যে অ্যাসিড ছিল। সঙ্গে সঙ্গে হিনার মুখ পুড়ে যায়। এদিকে, স্ত্রীর মুখ পুড়িয়ে দেওয়ার পরই বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।

জানা গিয়েছে, অ্যাসিড হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন ওই মহিলা। প্রতিবেশীরাই তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি বার্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, পারিবারিক কলহের কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়েছে।

নির্যাতিতার এক আত্মীয় জানান, দাম্পত্য় কলহের কারণেই বাড়ি ছেড়ে চলে আসে হিনা। রবিবার সকালে হিনা যখন বাপের বাড়িতে মুখ ধুচ্ছিলেন, সেই সময়ই অভিযুক্ত আমির আসে। তাঁর হাতে একটা স্টিলের জগ ধরা ছিল, সেই জগেই অ্যাসিড রাখা ছিল।  হিনার মুখ পুড়িয়ে দেওয়ার পরই ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়।হিনার চিৎকার ও কান্নার শব্দ শুনেই ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। তারাই হিনাকে নিয়ে হাসপাতালে যান।

Related Articles

Back to top button