জাতীয়

ঋণের বোঝা আরও বাড়বে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া পঞ্চম দফায় ফের রেপো রেট বাড়াল

নিজস্ব সংবাদদাতা: মূল্যবৃদ্ধি, আর্থিক মন্দার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে ফের একবার রেপো রেট বাড়াল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া । এদিন রিজার্ভ ব্য়াঙ্ক অব ইন্ডিয়ার তরফে রেপো রেট ৩৫ বেসিস বাড়ানো হয়েছে। এরফলে রেপো রেট বেড়ে ৬.২৫ শতাংশে পৌঁছল। চলতি বছরের মে মাস থেকে এই নিয়ে পঞ্চমবার রেপো রেট বাড়াল রিজার্ভ ব্য়াঙ্ক অব ইন্ডিয়া। এদিন রিজার্ভ ব্য়াঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাশ বলেন, মূল্যবৃদ্ধির দিকটি মাথায় রেখেই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মনিটারি পলিসি কমিটি রেপো রেট ৩৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরফলে অন্যান্য ব্যাঙ্কেও ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার বৃৃদ্ধি পাবে।

 

এ দিন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাশ জানান, গত ৫, ৬ ও ৭ ডিসেম্বর মনিটারি পলিসি কমিটির বৈঠকে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নজরে রেখে কমিটির ৬ সদস্যের মধ্যে ৫ সদস্যই রেপো রেট বাড়ানোর পক্ষেই সহমত জানান। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তরফে রেপো রেট ৩৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানো হল। এরফলে রেপো রেট ৬.২৫ শতাংশে বেড়ে দাঁড়াল। রিভার্স রেপো রেট অপরিবর্তিতই রাখা হয়েছে।রিজার্ভ ব্যাঙ্ক রেপো রেট বাড়ানোর ফলে সরকারি-বেসরকারি ব্যাঙ্কের সুদের হারও বৃদ্ধি পেতে চলেছে। গৃহস্থের উপরে বাড়বে ইএমআইয়ের বোঝাও।প্রসঙ্গত, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া যে হারে অন্যান্য ব্যাঙ্ককে ঋণ দেয়, তাকে রেপো রেট বলে। অন্যদিকে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অন্য ব্যাঙ্কের কাছ থেকে যে সুদের হারে ঋণ নেয়, তাকে রিভার্স রেপো রেট বলে।

 

উল্লেখ্য, করোনাকালে অর্থনীতির উপরে যে মন্দার ছায়া তৈরি হয়েছিল, তার জেরেই আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে রেপো রেটে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। তবে গত মে মাস থেকে ফের রেপো রেট বাড়ানো শুরু করে আরবিআই। প্রথম ধাপে ৪০ বেসিস পয়েন্ট ও পরবর্তী তিন ধাপে ৫০ বেসিস পয়েন্ট করে রেপো রেট বাড়ানো হয়। পঞ্চম দফায় এবার সেই বৃদ্ধির হার সামান্য কমিয়ে, রেপো রেট ৩৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানো হল।আরবিআইয়ের গভর্নর শক্তিকান্ত দাশ বলেন, “অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর-এই ত্রৈমাসিকে আর্থিক প্রবৃদ্ধির হার বা জিডিপির বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬.৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬.৬ শতাংশ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ ত্রৈমাসিকে জিডিপির বৃদ্ধির হারও ৫.৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫.৯ শতাংশ হতে পারে। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে সার্বিক আর্থিক প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬.৮ শতাংশে করা হয়েছে।”শক্তিকান্ত দাশ আরও বলেন, “গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। উৎপাদন ও পরিকাঠামোর ক্ষেত্রেও আরও উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ১২ মাসের মধ্যে ভারতে মূল্যবৃদ্ঘির হার ৪ শতাংশের উপরে পৌঁছতে পারে।”

Related Articles

Back to top button