‘অনুব্রতর গ্রেফতারির পিছনে কারা খুঁজে বের করতে হবে’, ED-কে মামলার কপি দেওয়ার নির্দেশ আদালতের

নিজস্ব সংবাদদাতা: গত সপ্তাহেই আসানসোল জেল থেকে গ্রেফতার করে দুবরাজপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে । আপাতত পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন তিনি। সেই ঘটনায় এফআইআরের কপি ও মামলার অন্যান্য নথি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট । শুনানি শেষে ইডি-র দাবিকেই মান্যতা দিল দুবরাজপুর আদালত।
ইডি-র দাবি, অনুব্রত যাতে দিল্লি যেতে না পারেন, তার জন্যই এটা একটা সাজানো গ্রেফতারি। সেই গ্রেফতারির পিছনে কারা আছে, তা জানতেই এই সব কপি চাওয়া হচ্ছে বলে জানায় ইডি। পুরনো একটি মামলায় সম্প্রতি গ্রেফতার হন গরু পাচার মামলার অন্যতম অভিযুক্ত অনুব্রত। সাতদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। মঙ্গলবারই তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে।
এদিন শুনানির শুরুতে আদালতে দাঁড়িয়ে সরকারি আইনজীবী জানান, তাঁদের কাছে আবেদনের কোনও কপি পৌঁছয়নি। ইডির আইনজীবী জানান, সার্টিফায়েড কপি চাওয়ার জন্যে শুনানির ঘটনা এই প্রথম দেখছেন তাঁরা। এরপর সরকারি আইনজীবীর তরফে দাবি করা হয়, ইডি-কে আবেদনের কপি দিতে হবে।
বিচারক ইডির আইনজীবীকে বলেন, ‘আপনি কি এখন আবেদন এর কপি দিতে পারবেন?’। ইডির আইনজীবী বলেন, আপনি লিখিত অর্ডার দিলে দিতে পারব। এরপর বিচারপতি লিখিত অর্ডার দেন। সেই মতো ইডির আইনজীবী সরকারি আইনজীবীকে আবেদনের কপি দেন।
কিছুক্ষণ স্থগিত থাকার পর ফের শুনানি শুরু হলে, ইডির আইনজীবী বলেন, ‘আমরা অনুব্রত মণ্ডলকে গরু পাচার মামলায় গ্রেফতার করেছিলাম। আমাদের একটা মামলা দিল্লি হাইকোর্টে চলছে। ১৯ তারিখে অর্থাৎ আমরা যেদিন অনুব্রত মণ্ডলকে দিল্লি নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম, সেদিনই অন্য একটি মামলায় তাঁকে এখানে গ্রেফতার করা হল। আমরা মনে করছি পুরোটাই অনুব্রত মণ্ডলের দিল্লি যাত্রাকে আটকানোর প্রচেষ্টা করা হচ্ছে এবং তার এই গ্রেফতারির ঘটনাটি পুরোটাই সাজানো।
আমাদের এটা খুঁজে বের করতে হবে এর পিছনে কারা রয়েছে। এফআইআর কপি না পেলে এর পিছনে করা রয়েছে তা আমরা জানতে পারব না।’ ইডি-র আরও দাবি, অভিযোগ পত্রে ঘটনা কোন সময়ে ঘটেছে, তার স্পষ্ট উল্লেখ নেই। অনুব্রত মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়ে প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টে যাবে বলেও উল্লেখ করেছে ইডি।
অন্যদিকে সরকারি আইনজীবী দাবি করেন, এ ক্ষেত্রে ইডি এই মামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়, তাই নথি চাইতে গেলে সঠিক কারণ দর্শানো প্রয়োজন। আবেদন পত্রেই ত্রুটি রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন আইনজীবী। দু পক্ষের কথা শোনার সরকারি আইনজীবীর সব যুক্তি খারিজ করে দিয়েছে আদালত। ইডিকে সব নথি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



