তিনদিন মন্দিরেই আশ্রয় নিলেন উমা ভারতী, কারণ জানেন?

নিজস্ব সংবাদদাতা: বরাবর মধ্য প্রদেশে মদ বিক্রির বিরোধিত করা এসেছেন বিজেপি নেত্রী উমা ভারতী । এবার রাজ্যে মদ বিক্রির বিরুদ্ধে এক অনোন্য পদক্ষেপ করলেন বিজেপি নেত্রী। রাজ্যে মদ নিয়ে নয়া নীতি বাস্তবায়ন হওয়া না পর্যন্ত তিনি ভগবানের কাছেই আশ্রয় নেবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি শনিবার বলেছেন, “৩১ জানুয়ারি নয়া মদ নীতি বাস্তবায়ন করা হবে। ততদিন পর্যন্ত ভগবানের আশ্রয়ে থাকব আমি।”
নতুন মদ সম্পর্কিত নীতি প্রবর্তনের আগে আগামী এই তিন দিন রাজধানী ভোপালের অযোধ্যা নগর এলাকায় অবস্থিত পঞ্চমুখী হনুমান ও দুর্গা মন্দিরে থাকবেন ভারতী। তিনি দাবি করেছেন, এই নয়া নীতি যেন আরও কঠোর করা হয়। এদিকে উল্লিখিত এক মন্দিরের সামনেই একটি মদের দোকান রয়েছে। উমা ভারতী বলেছেন, “যাকে ধ্বংস করা হবে তা (মদের দোকান) সামনে রয়েছে। আর যার থেকে শক্তি নেওয়া হবে তা রয়েছে পিছনে। আমি এখানে এসেছি কারণ আমার অনেক সমস্যা হচ্ছিল। এখানে দুর্গা ও হনুমান মন্দির রয়েছে। কিন্তু এর সামনে ৫০ মিটারের মধ্যে একটি বার ও মদের দোকান রয়েছে।”
তিনি আরও বলেছেন, “২০২২ সালের ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে নবরাত্রির সময় কয়েকজন মহিলা মদ বিক্রির বিরুদ্ধে মিছিল বের করেছিলেন। সেই সময় রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছিল, তারা মদ নীতি নিয়ে আলোচনা করবে এবং এই মদ বিক্রিকে রাজস্বের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করবে না। সরকার আরও বলেছে, তারা মহিলাদের সমস্যা বুঝতে পেরেছে এবং সরাইখানাগুলির জন্য একটি উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে।” তিনি মধ্য প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের প্রতি ভরসা রেখেই বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী চৌহানের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তবে আশঙ্কা রয়েছে, সরকার যাদের সঙ্গে পরামর্শ করেছে তাঁরা কোনও সমস্যা তৈরি করতে পারে না। এখন আমি দেখব, ৩১ জানুয়ারি নতুন মদ নীতিতে সরকার কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
এদিকে তিনি নয়া মদ নীতির সঙ্গে ভোটের অঙ্কও কষে ফেলেছেন ইতিমধ্যেই। তিনি বলেছেন, “আমি বিশ্বাস করি, আমার নির্দেশে যদি নিয়ন্ত্রিত মদ বিতরণ ব্যবস্থা চালু করা হয় অনেক বেশি সংখ্যায় মহিলারা ভোট দেবেন। মধ্য প্রদেশে ২০০৩ সালের রেকর্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। কারণ মদ্যপানে সবকিছু ভেসে যায়। এমনকী আদরের লক্ষ্মীরাও রাস্তায় হাঁটতে নিরাপদ নয় এবং এমনকী আবাসিক লোকেরাও সুখে বসবাস করতে পারে না।” তিনি আরও বলেন, “একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে হবে এবং মধ্যপ্রদেশ নিয়ন্ত্রিত মদ বিতরণ ব্যবস্থায় মডেল রাজ্যে পরিণত হবে।”


