রাজ্য

মিড ডে মিলে মাংস-ভাত চেটেপুটে খেল ওরা, এরপরই বিপাকে শতাধিক পড়ুয়া

নিজস্ব সংবাদদাতা: কুলতলিতে মিড ডে মিল খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ল শতাধিক পড়ুয়া। অভিযোগ, মিড ডে মিল খেয়ে কুলতলির নকুল সহদেব হাইস্কুলে প্রায় ১০০ জন পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থ প্রত্যেককেই নিয়ে যাওয়া হয় জামতলায় জয়নগর-কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিভাবকরা। খবর পেয়ে স্কুলে ছুটে যান কুলতলি থানার পুলিশ, বিডিও, অবর স্কুল পরিদর্শক। যদিও বারুইপুরের মহকুমা শাসক জানিয়েছেন, ৮২ জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। কী কারণে এই ঘটনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খবর পেয়ে হাসপাতালে যান কুলতলির বিধায়ক গণেশ মণ্ডলও।

মিড ডে মিল কতটা স্বাস্থ্যকর তা নিয়ে প্রায় প্রায়ই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় কর্তৃপক্ষকে। মিড ডে মিলে সাপ, ব্যাঙ, টিকটিকি পড়তেও দেখা গিয়েছে অতীতে। এরইমধ্যে সোমবার কেওড়াখালি নকুল সহদেব হাইস্কুলে শোরগোল। সোমবার এই স্কুলের মিড ডে মিলে ছিল স্পেশাল মেনু, মাংস-ভাত। সকাল থেকেই খুশিতে ডগমগ ছিল একরত্তিরা। কে জানত, সে মাংস-ভাতে এমন কাণ্ড ঘটবে!

অভিযোগ, এদিন মিড ডে মিল খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়ে ছাত্র ছাত্রীরা। তড়িঘড়ি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের। এই খবর জানাজানি হতেই স্কুলে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকরা। স্থানীয় এক বাসিন্দা সৌমিত্র মণ্ডলের কথায়, “অসুস্থ হয়ে পড়েছিল ছেলে মেয়েগুলো। মিড ডে মিলে বাসি মাংস খাইয়েছে। বাসি ভাতও ছিল। এমনও অনেক পড়ুয়া বলছে খাবার থেকে কেরোসিনের গন্ধ বেরোচ্ছে। মাস্টারমশাই বলেছেন, ওটাই খেয়ে নাও।”

খবর পেয়ে অসুস্থদের দেখতে হাসপাতালে যান এলাকার বিধায়ক। খাবারে বিষক্রিয়া হয়েছে, মানছেন তিনিও। কুলতলির বিধায়ক গণেশ মণ্ডল বলেন, “একটু ফুড পয়েজন হয়েছে মনে হচ্ছে। কেন এমনটা হল তা জানতে কুলতলির বিডিও এবং প্রশাসনিক আধিকারিকরা স্কুলে যান। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে কোথায় কী সমস্যা হল।”

বারুইপুরের মহকুমা শাসকের দাবি, অসুস্থ পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যের দিকে নজর থাকবে আশাকর্মীদের। মহকুমা শাসক সুমন পোদ্দার বলেন, “আমরা কোনওরকম ঝুঁকি না নিয়ে এলাকার আশাকর্মীদের হাতে অসুস্থ বাচ্চাদের তালিকা দিয়ে দিচ্ছি। আগামী ৪৮ ঘণ্টা আশাকর্মীরা এদের উপর নজর রাখবেন। যদি কারও ন্যূনতমও কোনও সমস্যা হয়, সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Related Articles

Back to top button