মশাল হাতে রাস্তায় পাহারায় বনকর্মীরা, হাতি-ভয় জয় করেই পথ উজিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে জঙ্গলমহলের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা

নিজস্ব সংবাদদাতা: পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলমহল এলাকায় রয়েছে হাতি। বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক পরীক্ষার দিন জলপাইগুড়ি এলাকায় হাতির হানায় এক পরীক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার পর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জঙ্গল লাগোয়া থানাগুলিতে বিশেষ নজরদারি চালানো শুরু করেছে পুলিশ। অন্যদিকে জঙ্গল এলাকা দিয়ে পরীক্ষার্থীরা যাতে সুষ্ঠুভাবে কেন্দ্রে পৌঁছতে পারে সেজন্য বন দফতর সতর্ক। জঙ্গল পথে কর্তব্যরত রয়েছেন বন কর্মীরাও। খড়গপুর বন বিভাগের অধীন ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম থানার কলমাপুকুরিয়া-সহ বিভিন্ন এলাকায় বন দফতরের কর্মীরা সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য জঙ্গল পথে নজরদারি চালান। সাইকেলে বা গাড়িতে করে যাচ্ছেন এমন পরীক্ষার্থীরা যাতে জঙ্গল পথ নির্বিঘ্নে পারাপার করতে পারে তার ব্যবস্থা করেন। জঙ্গলে মাইক নিয়ে সতর্ক করেন তাঁরা। বন দফতরের তরফে গাড়িতে করেই পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছনোর ব্যবস্থা করে।
খড়্গপুরের ডিএফও শিবানন্দ রাম বলেন, “হাতি নিয়ে যাতে কোনও আতঙ্ক তৈরি না হয় সেজন্য জঙ্গল লাগোয়া রাস্তায় নজরদারি চালানো হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে ও পরীক্ষার পর বাড়িতে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।” কেশরেখা, নয়াগ্রাম, কলাইকুন্ডা সহ বিভিন্ন জঙ্গলে হাতি রয়েছে। কোন এলাকায় হাতি রয়েছে, তার হিসাব নিয়ে তাঁদের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। প্রতি বছরই পরীক্ষার সময় করা হয়ে থাকে, এবারেও করা হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য বন দফতরের গাড়ি রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, প্রয়োজনে আরও কিছু গাড়ির ব্যবস্থা করা হবে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে। হাতি নিয়ে উদ্বেগে থাকে বাঁকুড়াও। পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের ঝুঁকি নিতে চাইছে না বাঁকুড়ার বনদফতর। গাড়িতে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর আরও সতর্ক প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার হাতির পায়ে পিষে মৃত্যু হয় জলপাইগুড়ির এক মাধ্য়মিক পরীক্ষার্থীর। বাবার সঙ্গে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার সময় জলপাইগুড়ির বৈকন্ঠপুর জঙ্গল সংলগ্ন টাকি মারি এলাকায় এক দাঁতালের সামনে পড়ে যায় সে। পালানোর আগেই পায়ে পিষে হাতিটি।



