রাজ্য

উচ্চমাধ্যমিকেও থাকছে বন দফতরের বিশেষ গাড়ি, পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হবে পরীক্ষার্থীদের

নিজস্ব সংবাদদাতা: জেলার ১৬টি হাতির করিডরে রয়েছে ১৭৬ জন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। তারা যাতে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিতে পারে, পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার সময় কোনও সমস্যায় না পড়ে, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন। পথে বন্যপ্রাণীর ভয়। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন জঙ্গল সংলগ্ন এলাকার পরীক্ষার্থীদের যাতাযাতের জন্যও আলাদা করে পরিবহণের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। সোমবার এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিন জলপাইগুড়ির বৈকুন্ঠপুরের জঙ্গলের মহারাজ ঘাট এলাকায় হাতির হামলায় এক পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। ঘটনা জানতে পেরেই বন সংলগ্ন এলাকার পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা চলাকালীন যাতাযাতের জন্য আলাদা করে পরিবহের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে বনসংলগ্ন এলাকার মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দিয়ে আসার জন্য আলাদা করে গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়।

তবে শুধু মাধ্যমিক নয়, এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সময়ও বন সংলগ্ন এলাকার পরীক্ষার্থীদের জন্য এই ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্য জেলা শাসকের দফতরে আলোচনায় বসেন প্রশাসনের প্রতিনিধিরা। সোমবার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিকেলে অরণ্য ভবনে আলাদা করে বৈঠকে বসেন বন দফতরের আধিকারিকরা। সেখানে পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। জানা গিয়েছে, জলপাইগুড়ি বন বিভাগের এলাকার মধ্যে ১৬ টি হাতির করিডর রয়েছে।

করিডর সংলগ্ন গ্রাম এবং বনবস্তি এলাকায় ১৭৬ জন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী রয়েছে। তাদের নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করবে বন দফতর। বন দফতরের ২৫টি গাড়ি রয়েছে। আরও ১০টি গাড়ির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জলপাইগুড়ি বন বিভাগের বনাধিকারিক বিকাশ বিজয় বলেন, তার এলাকার মধ্যে ১৬টি করিডর রয়েছে। এরমধ্যে স্পর্শকাতর করিডর হল মোরাঘাট এলাকায়। সেখানে ৩০টির বেশি হাতি আছে। হাতিদের গতিবিধির উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে।

বন সংলগ্ন এলাকার ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। ১৪ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। মাধ্যমিক পরীক্ষার পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীনও জঙ্গলের রাস্তা ড্রপ গেট দিয়ে আটকে দেওয়া হবে বলে বনাধিকারিক জানিয়েছেন।

Related Articles

Back to top button