আমি গেঁয়ো টাইপের লোক… আমেরিকায় গিয়ে কিচেনের সসপ্যান দিয়ে স্নান করেছি: মমতা

কলকাতা: ধনধান্য অডিটোরিয়ামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় নিজের জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় (Mamata Banerjee)। বাংলাদেশিদের আদর-আপ্যায়ণের কথা বলতে গিয়ে নিজের বিদেশ ভ্রমণের এক অভিজ্ঞতার কথা জানালেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী যখন রাষ্ট্রপুঞ্জে গিয়েছিলেন, সেই সময় আমেরিকায় যে হোটেলে ছিলেন, সেই হোটেলে কিচেনের ব্যবস্থা ছিল। নিজেদেরই রান্না করে খেতে হত সেখানে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী ব্যস্ত সূচির মধ্যে রান্না করার সময় বের করে গিয়ে ঝক্কির মধ্যে পড়েছিলেন। তখন এক বাংলাদেশির সঙ্গে আলাপ হয়েছিল তাঁর। সেই বাংলাদেশি যখন মুখ্যমন্ত্রীর খাওয়া-দাওয়ার এই সমস্যার কথা জানতে পেরেছিলেন, তখন এক ক্যান ভর্তি খাবার পাঠিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর জন্য। সেই খাবারের পরিমাণ এতটাই ছিল যে, গোটা এক সপ্তাহের খাবারের বন্দোবস্ত হয়ে গিয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘আমি একটু গেঁয়ো, ঘরোয়া টাইপের লোক। ওখানে গিয়ে না পেয়েছি বালতি, না পেয়েছি মগ। শেষে আমি দেখি কিচেনে একটা সসপ্যান আছে। সেই সসপ্যান নিয়ে এসে আমি স্নান করেছি।’ নিজের জীবনের এমনই সব মজার মজার অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী। বলতে বলতে নিজেই হাসলেন। সঙ্গে এও জানালেন, ‘এইসব দেখে দেখেই শেখা। কিন্তু কাউকে বুঝতে দিইনি যে জানি না। আমি বিদেশের ফ্লাইটে প্রথম চড়েছিলাম। শুধু পাশের লোকটা কী করছে দেখেছি। এইভাবে শিখতে শিখতে এই জায়গায় এসেছি।’ ধনধান্য অডিটোরিয়ামের উদ্বোধনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমন বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন।
‘সংখ্যালঘু’ শব্দটাই মুছে ফেলতে হবে: বাংলাদেশি মন্ত্রী
এর পাশাপাশি পূর্ত দফতরের তৈরি করা এই ধনধান্যে অডিটোরিয়ামের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বললেন, ‘এই কাজগুলি করেন আমাদের গ্রামের গরিব মজদুররা। কিন্তু কাজ হয়ে যাওয়ার পর তাঁরা আর আসতে পারেন না, ঢুকতে পারেন না। তাঁদের জন্য একটা নো এট্রি লাগিয়ে দেওয়া হয়। কারণ, তখন তাঁকে টিকিট কেটে ঢুকতে হয়।’ এরপরই মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দেন, যে গরিব মজদুররা এই অডিটোরিয়াম তৈরির কাজ করেছেন, এই অডিটোরিয়ামেই তাঁদের সংবর্ধনা দেওয়ার একটি ব্যবস্থা করার জন্য।



